Mark Wood: দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শেষপর্যন্ত, হার মানতেই হল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন ইংল্যান্ডের তারকা পেসার মার্ক উড। চিকিৎসকদের পরামর্শেই ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
Mark Wood: ইংল্যান্ডের তারকা পেসার মার্ক উড চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। প্রায় এক বছর ধরে চোটের সঙ্গে লড়ছিলেন তিনি। উড নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই লড়াইয়ে তিনি "হেরে গেছেন"। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার গত নভেম্বরে অ্যাশেজে পার্থ টেস্টে শেষবার ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন (Mark Wood)। এরপর হাঁটুর চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যান তিনি। তারপর থেকে আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও দেখা যায়নি তাঁকে।
'লড়াইয়ে আমি হেরে গেছি'
উড একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর সেন্ট্রাল চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর এটাই "সঠিক সময়" বলে মনে করছেন তিনি। তিনি সবসময় চোট সারিয়ে ফিরে এসে বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছেন। কিন্তু এবার তিনি নিজেই বলছেন, "আমি লড়াইয়ে হেরে গেছি।" চিকিৎসকরা তাঁকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, টেস্ট বা ওয়ানডে খেলা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। উড বলেন, "আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত এক বছরের পরিস্থিতি দেখলে এটা খুব একটা অবাক করার মতো বিষয় নয়। চুক্তির শেষে এটাই স্বাভাবিক সময় বলে মনে হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি সবসময় চোট সারিয়ে ফিরে এসে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এবার আমি হেরে গেলাম। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টেস্ট এবং ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলা আর সম্ভব নয়। তাই গত এক বছরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্নটা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে গেছে।"
'সবচেয়ে বড় সম্মান'
উড ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাটাকে নিজের জীবনের "সবচেয়ে বড় সম্মান" বলে মনে করেন। এটা তাঁর কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। তিনি বলেন, "ইংল্যান্ডের হয়ে এত ম্যাচ খেলতে পেরে আমার ভেতরের ছোট্ট ছেলেটা আজ ভীষণ খুশি। সারা বিশ্ব ঘুরেছি, দারুণ সব মানুষের সঙ্গে মিশেছি এবং সেরাদের সঙ্গে খেলেছি। নিজের পছন্দের কাজটা করতে পেরে আমি নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবান মনে করি।"
উড নিজের গতির জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি জানান, ইংল্যান্ড, নিজের ক্লাব, শহর এবং অঞ্চলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন "প্রতিটি বল যেন জীবনের শেষ বল হয়, আর যতটা সম্ভব জোরে বল করা যায়।" উড বলেন, “ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার চেয়ে ভালো অনুভূতি আর কিছু হতে পারে না। এই জার্সি পরার যে গর্ব, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আশা করি, আমি আমার পরিবার, ক্রিকেট ক্লাব, শহর এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলকে গর্বিত করেছি। দেশের হয়েও ঠিক একইভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছি। আমার মনে শান্তি আছে যে, আমি নিজের সেরাটা দিয়েছি। প্রতিটি বল জীবনের শেষ বল ভেবেই সবচেয়ে জোরে করার চেষ্টা করেছি। আমি দেশের সেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়েছি। দারুণ সব কোচ এবং অসাধারণ দলের অংশ হতে পেরেছি। দুর্দান্ত সব ফিজিও এবং সাপোর্ট স্টাফদের পেয়েছি, যাদের যত্ন ছাড়া আমি এর অর্ধেকও খেলতে পারতাম না। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সময় মাঠ এবং মাঠের বাইরের স্মৃতিগুলো, বিশেষ করে সম্পর্কগুলো আমি সবসময় মনে রাখব।”
পরিবার এবং ভবিষ্যৎ
উড সবশেষে "ভালো এবং খারাপ সময়ে" পাশে থাকার জন্য পরিবার ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে লিগ ক্রিকেট এবং নিজের কাউন্টি দল ডারহামের হয়ে খেলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনি। উড আশা প্রকাশ করেছেন যে, কোনো না কোনোভাবে তিনি ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। তিনি বলেন, "পর্দার আড়ালে যখন খারাপ সময়ের সঙ্গে লড়তে হতো, তখন জানতাম আমার পাশে শক্ত সমর্থন আছে। এটাই আমাকে আরও ভালোভাবে ফিরে আসতে সাহায্য করত। আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করেছি। আশা করি, ভবিষ্যতে অন্য কোনো ভূমিকায় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারব এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে পারব।"
পরিসংখ্যানে মার্ক উডের ক্যারিয়ার
উড ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ৩৮টি টেস্ট খেলেছেন। ৩০.৭৯ গড়ে নিয়েছেন ১১৯টি উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ৩৭ রানে ৬ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন পাঁচবার। ৭০টি ওয়ানডে ম্যাচে ৪০.৮২ গড়ে তাঁর শিকার ৮০টি উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ৩৩ রানে ৪ উইকেট। এছাড়া ৩৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২০.২৪ গড়ে ৫৪টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। সেরা বোলিং ফিগার ৯ রানে ৩ উইকেট। সব মিলিয়ে ১৪৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩১.৭১ গড়ে ২১৭টি উইকেট নিয়েছেন এই তারকা পেসার।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


