আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি কর্তৃক সম্মান জানাল হল ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের দ্রোণাচার্য পুল্লেলা গোপীচাঁদকে। প্রথমে সাইনা নেহওয়াল তারপর পিভি সিন্ধুর মতো তারকার অলিম্পিকে পদক আনার পেছনে একটি মূল কারণ তিনি। মূলত তার দেখানো পথ দিয়েই বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের অবিশ্বাস্য উত্থান এবং সাফল্য। যার ফলস্বরূপ কোচেদের আজীবন স্বীকৃতি দেওয়ার মঞ্চে আইওসি-র কর্তারা মঞ্চে গোপীকে আলাদা করে সম্মান প্রদানও করেছেন।

বিগত বছরে নানান স্পোর্টসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন তারকা কোচেদের সাফল্যের ভিত্তি বিচার করে দেওয়া হয় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। এই সম্মানকে কোচিংয়ের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সেরা সম্মান বলে মনে করা হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তরফ থেকে বলা হয়েছে গোপীচাঁদ যেভাবে সারা পৃথিবীর সামনে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনকে তুলে ধরেছে, তাতে তারা অভিভূত। 
গোপীচাঁদের ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ক্ষেত্রে যা  অবদান তা সারা বিশ্বের সমস্ত স্পোর্টসের জন্য এবং অলিম্পিক মুভমেন্টের জন্য এক আলাদা অনুপ্রেরণা যোগায় বলেও জানিয়েছে আইওসি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই গোপীর এই সম্মানের খবর ছড়িয়ে পড়ে ক্রীড়া মহলে। তার ফলে রীতিমতো খুশির হওয়া বইছে ভারতীয় ক্রীড়া জগতে। এর আগে কোনও ভারতীয় ক্রীড়াবিদ কিংবা কোচ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থার পক্ষ থেকে এমন সম্মান পাননি। গোপীচাঁদ এই সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন যে এই স্বীকৃতি তার কাছে অত্যন্ত গর্ব এবং খুশির বিষয়। এই স্বীকৃতি শুধুমাত্র গোপীচাঁদের একার নয়, বরং তা সমস্ত ভারতীয় কোচেদের বলেও মন্তব্য করেছেন সাইনা, সিন্ধুদের প্রাক্তন স্যার। এই স্বীকৃতির জন্য তিনি সরকার থেকে শুরু করে অলিম্পিক সংস্থাকে, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রককে ও সবশেষে ভারতীয় ব্যাটমিন্টন সংস্থাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 

তিনি নিজে ক্রীড়াবিদ হিসাবে তেমন সফল নন। যদিও ২০০১ সালের অল ইংল্যান্ড ওপেন জয় করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন গোপীচাঁদ।  নিজে প্লেয়ার হিসেবে সাফল্য না পাওয়ার আফসোস গোপীচাঁদ মিটিয়ে নিয়েছেন কোচ হিসেবে। মেয়েদের মধ্যে সাইনা নেহওয়াল, পিভি সিন্ধুর পাশাপাশি ছেলেদের বিভাগে নামকরা শাটলার কিদাম্বি শ্রীকান্ত, সাই প্রণীথ, পারুপল্লি কাশ্যপদের কেও নিজের হাতে তৈরি করেছেন তিনি। এই স্বীকৃতি গোপীচাঁদকে ভবিষ্যতে এভাবেই এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাবে তাতে সন্দেহ নেই। এই প্রসঙ্গে গোপীচাঁদ নিজে জানিয়েছেন, যে এই সম্মান তাকে আগত দিনের আরো ভালো করে কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাল এবং দায়িত্বও বাড়ালো।