Home Diet Tips: ফুটবল বিশ্বকাপ এমন একটা ইমোশন, যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকা। তাই বন্ধুরা মিলে অনেক সময় হাউজ পার্টি করতে করতেও খেলা দেখা চলতে থাকে। আর হাউজ পার্টি মানেই ভালো খাওয়াদাওয়া এবং সঙ্গে একটু মদ্যপান। অনেকে আবার রাত জেগে ম্যাচ দেখার সময় কফিও খান। কেউ কেউ আবার জল কম খান। অনেকের আবার পরদিন অফিসও থাকে।
Home Diet Tips: রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখার আনন্দই আলাদা। তার মধ্যে সব টানটান উত্তেজনার হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ। না দেখে থাকা যায়? অনেকে আবার রাত জেগে ভোরবেলাও উঠে পড়ছেন প্রিয় দলের খেলা দেখতে। নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম মেগা স্পোর্টিং ইভেন্ট ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। ‘ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬' জ্বরে আক্রান্ত ৮ থেকে ৮০ সকলে (healthy lifestyle diet tips)। তবে ম্যাচ দেখার সঙ্গে সঙ্গে তো শরীরটাকেও ঠিক রাখতে হবে। তাই মেনে চলতে হবে সঠিক ডায়েট (Home diet tips)।

রাত জেগে উপভোগ করছেন ফুটবল বিশ্বকাপ
আসলে ফুটবল বিশ্বকাপ এমন একটা ইমোশন, যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকা। তাই বন্ধুরা মিলে অনেক সময় হাউজ পার্টি করতে করতেও খেলা দেখা চলতে থাকে। আর হাউজ পার্টি মানেই ভালো খাওয়াদাওয়া এবং সঙ্গে একটু মদ্যপান। অনেকে আবার রাত জেগে ম্যাচ দেখার সময় কফিও খান। কেউ কেউ আবার জল কম খান। অনেকের আবার পরদিন অফিসও থাকে। তাই আপনার শরীরটাকেও ঠিক রাখা জরুরি। অতএব, মেনে চলতে হবে কয়েকটি নিয়ম এবং নজর দিতে হবে সঠিক ডায়েটের দিকে। এই প্রসঙ্গেই এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে বিস্তারিত জানালেন ডায়েটিশিয়ান অভিষা রায়।
তাঁর কথায়, “হাইড্রেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। প্রতিদিন ২.৫-৩.৫ লিটার জল পান করুন। ঘুম থেকে উঠেই এক থেকে দু-গ্লাস জল অবশ্যই খান। কফি কিংবা অ্যালকোহল পান করলে বাড়তি ১-২ গ্লাস জল খাওয়া জরুরি। কারণ, ডিহাইড্রেশন হলে ক্লান্তি, ব্লোটিং এবং শরীরে জলের পরিমাণ কমে যেতে পারে। একটি উপযুক্ত ডায়েট প্যাটার্ন ফলো করতে পারেন। সকালের ব্রেকফাস্ট একদমই এড়িয়ে যাবেন না। খাবারে প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে ডিম, মাছ, চিকেন, পনির, ডাল এবং সয়াবিন রাখতে পারেন। এছাড়া হাফ প্লেট সবজি, কোয়ার্টার প্লেট প্রোটিন, কোয়ার্টার প্লেট ভাত বা রুটি খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ২-৩ টুকরো ফল খান।"
ডায়েটিশিয়ান অভিষা রায় জানিয়েছেন, “খেলা দেখার সময়, স্ন্যাকস হিসেবে রোস্টেড চানা, মাখানা বাদাম (আমন্ড, আখরোট) শসা/গাজরের টুকরো, গ্রিক দই কিংবা ফল খেতে পারেন। কফি খেলে সেটা যেন কখনোই ২-৩ কাপের বেশি না হয়। তবে ঘুমানোর ৬ ঘণ্টার মধ্যে কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। মদ্যপান করলেও একেবারেই অতিরিক্ত করবেন না। অ্যালকোহলের সঙ্গে কোনওভাবেই ভাজা জাতীয় স্ন্যাকস খাবেন না। গ্রিলড চিকেন, স্যালাড, পনির টিক্কা কিংবা শুকনো ফল খান। চিনিযুক্ত ককটেলের পরিবর্তে কম চিনির বিকল্প বেছে নিন। তবে চিপস, সফট ড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাতীয় জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি, পেস্ট্রি, আইসক্রিম এবং কড়া তেলে ভাজা খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে পারলেই ভালো।"

সঠিক লাইফস্টাইল বজায় রাখতে গেলে অবশ্যই সপ্তাহে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম দরকার। তাঁর মতে, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং নিয়মিত খাবারের সময় তৈরি করে নিতে পারলে সবথেকে ভালো হয়। ৮০% ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বলছেন ডায়েটিশিয়ান অভিষা রায়। আর বাকি ২০% সময়ে, প্রিয় খাবার খাওয়া যেতেই পারে। এটা করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ জীবনযাপন করা সহজ হয়ে যায়।
প্রোটিন কোন কোন খাবার থেকে আমরা পেতে পারি?
ডিম, মাছ, চিকেন ব্রেস্ট, পনির, দই/গ্রিক দই, ডাল, ছানা, রাজমা এবং সয়াবিন।
স্মার্ট কার্বোহাইড্রেট কোন কোন খাবার থেকে আমরা পেতে পারি?
চাল (নিয়ন্ত্রিত অংশ), রুটি, ওটস, কুইনোয়া, মিষ্টি আলু এবং ফল।
এছাড়া স্বাস্থ্যকর চর্বি আমরা পেতে পারি বাদাম, আখরোট, চিনাবাদাম, চিয়া, শন, কুমড়ো এবং অলিভ অয়েল/সরষের তেল (সীমিত) থেকে।
খেলা দেখার সময়ের স্ন্যাকস
রোস্টেড চানা, মাখানা, তেল কম দিয়ে পপকর্ন, ফল, শসা-গাজর, সর্বোচ্চ ২-৩ কাপ কফি। তবে ঘুমানোর ৬ ঘণ্টার মধ্যে কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। কিন্তু কফি খেলে বেশি করে জলপান করুন।
হাউজ পার্টি করলে যে নিয়মগুলি মেনে চলবেন
পার্টিতে যাওয়ার আগে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। অ্যালকোহল খেলে মাঝে মাঝেই জলপান করুন। গ্রিলড চিকেন/ফিশ, স্যালাড, পনির টিক্কা, শুকনো ফল, স্যালাডকে বেছে নিন। ভাজা স্ন্যাকস, ক্রিমি ডিপস, চিনিযুক্ত ককটেল পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। এই যেমন চিপস, নিমকি, ফ্রায়েড আইটেম, ঠাণ্ডা পানীয়, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, পেস্ট্রি, কেক, চকোলেট, চটজলদি নুডুলস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার না খাওয়াই ভালো। রাত ১-২ টোর মধ্যে ভারী খাবার খেয়ে নিন।
দৈনিক ডায়েট চার্ট
রাত জেগে ম্যাচ দেখা তো আছেই। সঙ্গে যদি হাউজ পার্টি চলে কিংবা অ্যালকোহল পান করে থাকেন, তাহলে এই দৈনিক ডায়েট চার্টটি ফলো করতে বলছেন ডায়েটিশিয়ান অভিষা রায়।
সকাল ৭-৮টাঃ ৫০০ মিলি জল
সকাল ৮:৩০ঃ একটি ডিম এবং একটি ডিমের সাদা অংশ। সঙ্গে ৪০ গ্রাম ওটস + ১টি ফল (২০০ গ্রাম)
সকাল ১১টাঃ একটি ফল (আপেল/পেয়ারা/পেঁপে)/ ডাবের জল। সঙ্গে ৬-৭টা বাদাম।
দুপুর ২টোঃ লাঞ্চের সময় এক কাপ ভাত বা দুটো রুটি (মাল্টিগ্রেন) + মাছ (৭৫ গ্রাম) / চিকেন (৭৫ গ্রাম) + এক বাটি ডাল এবং স্যালাড।
বিকেল ৫টাঃ গ্রিন টি / ব্ল্যাক কফি (চিনি ছাড়া)
সন্ধ্যা ৬:৩০ঃ ভাজা ছোলা (৩০ গ্রাম) / মাখানা (২৫ গ্রাম) / অঙ্কুরিত ছোলা (৩০ গ্রাম)
রাত ৮টাঃ ডিনারের সময় ২টি রুটি / ৫০ গ্রাম কুইনোয়া + গ্রিলড চিকেন/মাছ/পনির (৮০ গ্রাম) + মিক্সড ভেজ (১টি মাঝারি বাটি)।
ম্যাচ দেখার সময়, পপকর্ন (এয়ার-পপড, নুন ছাড়া) খেতে পারেন। যদি অ্যালকোহল পান করেন, তাহলে সেই মাত্রা এক থেকে দু-পেগের বেশি একেবারেই নয়। প্রতিটি পেগের পর, ১ গ্লাস করে জল খান। চিপস, ফ্রাইড আইটেম এবং পিৎজা-বার্গার এড়িয়ে চলুন। তার বদলে খান গ্রিলড চিকেন, ফিশ টিক্কা, পনির টিক্কা, স্যালাড এবং শুকনো ফল।
তবে ম্যাচগুলি যেহেতু ভারতীয় সময়ে অনেকটাই রাতে শুরু হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হতে পারে অনেকের। তাই ঘুম থেকে উঠে এই চার্টটি ফলো করা শুরু করুন।
Disclaimer: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা কখনও কারও ডায়েট চার্ট ঠিক করে দিতে পারে না। তাই অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। এক্ষেত্রে ডায়েটিশিয়ান অভিষা রায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করে নিতে পারেন। তাঁর ইমেইল আইডিঃ abhisaroy5@gmail.com
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

