আইপিএল-এ অভিষেক বিরাট কোহলির দলের হয়ে। দলে ছিল একগাদা সুপারস্টার। তার মধ্যেও নিজের জাত চেনাতে বেশি সময় নেয়নি বছর ১৯-এর সরফরাজ। নিজেকে করে তুলেছিলেন ব্যাঙ্গালোরের মিডল-অর্ডারের অপরিহার্য অঙ্গ। ২০১৬ তে আরসিবি ফাইনালেও উঠে। কিন্তু সেই মরশুমের পর ফিটনেস ইস্যুতে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয় সরফরাজ কে।

মাত্র ১৯ বছরেই ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন সরফরাজ। তবু কেরিয়ার যেন একটু থমকে ছিল। মুম্বাইতে জন্মালেও মাঝে উত্তরপ্রদেশের হয়ে রঞ্জি খেলছিলেন। সেখানেও বলার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো পারফরম্যান্স ছিল না। ২০১৯ আইপিএলে তিনি মাঠে নেমেছিলেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে। সেখানে বেশ কয়েকটি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে আবার পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন। তবে অতি সম্প্রতি মুম্বাইয়ের হয়ে তার পারফরম্যান্স আবার নজর কেড়েছে সকলের। পুরোনো রঞ্জি দল উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে করা তার ত্রিশতরান দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে। সরফরাজ নিজেও জানিয়েছেন, ত্রিশতরান সবসময়ই স্পেশাল, তার আগে সচিন টেন্ডুলকার, সুনীল গাভাস্কারের মতো ব্যাটসম্যানরা মুম্বাইয়ের হয়ে এরকম পারফরম্যান্স করেছেন। তাদের সাথে এখন তাও নাম উচ্চারণ করায় একইসাথে খুশি এবং বিব্রত হয়ে উঠেন সরফরাজ। নিজেকে এত তাড়াতাড়ি ওতো বড় মাপের কিংবদন্তিদের তুলনা করতে নারাজ তিনি।

তার শারীরিক গড়ন যে তার আরসিবি থেকে বাদ পরার কারণ তা জানেন সরফরাজ। তিনি জানিয়েছেন তার বন্ধুরাও তার শারীরিক গড়ন নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করতো। তাকে মজা করে বন্ধুরা 'পান্ডা' বলে ডাকতো সে কথাও জানিয়েছেন সরফরাজ। নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে জানিয়েছেন খাওয়ার তালিকা বদলে এবং নিয়মিত পরিশ্রম করে এই সাফল্য এসেছে। তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক ফিট সেটা জানাতেও ভোলেননি সরফরাজ। তিনি আরও বলেছেন, তিন বছর আগে আরসিবি থেকে বাদ পড়াটা মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু কারোর ওপর কোনো ক্ষোভ নেই তার। বিরাট কোহলি তাকে জানিয়েছিলেন তার ফিটনেসে ঘাটতির কথাটা। তারপর থেকে কঠিন পরিশ্রম করেছেন। মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তার পরিশ্রমের ফলই এখন পারফরম্যান্স-এ দেখা যাচ্ছে। আরসিবি এর কথা আর মনে রাখতে চান না। এই বছর কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব তাকে রিটেন করেছে। তাদের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স করাই এখন তার লক্ষ্য। তার আগে মুম্বাইয়ের হয়ে রঞ্জিতে নিজের সেরাটা দিতে চান সরফরাজ।