Iran World Cup Replacement: এএফসি জোন থেকে মোট আটটি দেশ এবারের বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার টিকিট পেয়েছিল। এশিয়া থেকে জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, উজবেকিস্তান, জর্ডন, কাতারের সঙ্গে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা পেয়েছিল ইরানও।

Iran World Cup Replacement: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পাল্টা হামলায় নেমেছে ইরান। দেশে যুদ্ধ চলায় তারা আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। এএফসি জোন থেকে মোট আটটি দেশ এবারের বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার টিকিট পেয়েছিল। এশিয়া থেকে জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, উজবেকিস্তান, জর্ডন, কাতারের সঙ্গে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা পেয়েছিল ইরানও। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তেহরান এবারের বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন প্রশ্ন ইরানের পরিবর্তে বিশ্বকাপের মূলপর্বে কোন দেশকে খেলতে দেখা যাবে। প্রসঙ্গত, আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডায় হতে চলা এবারের ফিফা বিশ্বকাপে ইরান পড়েছিল গ্রুপ জি-তে বেলজিয়ান, ইজিপ্ট ও নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে। এবার ফিফা যে দেশকে অন্তর্ভুক্ত করুক তারা গ্রুপ জি-তে ঠাঁই পাবে।

এইসব ক্ষেত্রে কি নিয়ম FIFA-র 

ইরানের জায়গায় কোন দল বিশ্বকাপে খেলবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা। এখন সব দিক খোলা রেখে এগোচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। ২০২৬ সালের জুনে বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও প্রায় তিন মাস বাকি। বিশ্বকাপ থেকে সরায় ইরানকে জরিমানা দিতে হতে পারে। এতে প্রায় ২.৫ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ পর্যন্ত জরিমানা, ফিফা থেকে পাওয়া প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের টাকা ফেরত দেওয়া, এবং ভবিষ্যতে ফিফার প্রতিযোগিতা থেকে নিষেধাজ্ঞা বা অন্য শাস্তিও হতে পারে ইরানের। এখন দেখে নেওয়া যাক ইরানের পরিবর্তে কাদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ইরানের পরিবর্ত হিসাবে কোন দেশকে সুযোগ দেওয়া হবে তা ফিফার নিয়মের আর্টিকেল 6.5 এবং 6.7 অনুযায়ী অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ইরানের পরিবর্তে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ মিলে যেতে পারে যে দেশগুলির একটির

১) ইরাক (Iraq):

ইরানের পরিবর্তে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার বিষয়ে ইরাকই ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইরাক এএফসি বাছাইপর্বে ভালো খেলেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে হারিয়ে প্লে-অফে জায়গা পেয়েছে। এখন তারা আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বলিভিয়া বা সুরিনামের মধ্যে যে দল জিতবে।

২) সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE):

আরও একটি সম্ভাব্য দল হিসেবে তাদের নাম প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। তারা এএফসি অঞ্চলের সেই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে যারা এখনও বিশ্বকাপে ওঠেনি, কিন্তু র‍্যাঙ্কিংয়ে বেশ উপরে আছে বা প্লে-অফে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। যদি প্লে অফে খেলে ইরাক মূল বিশ্বকাপে উঠে যায় বা কোনও কারণে খেলতে না পারে, তাহলে বিকল্প হিসেবে UAE-র নামও বিবেচনা করা হতে পারে।

৩) ইতালি (Italy):

যদি ইরানের পরিবর্ত হিসাবে অন্য কোন দলকে বিবেচনার ক্ষেত্রে ফিফা ব়্যাঙ্কিংয়ে মাথায় রাখা হয় তাহলে শিঁকে ছিড়তে পারে চারবারের বিশ্বকাপজয়ী দেশ ইতালি। ২০১৮, ও ২০২২-পরপর দুটো বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে পারেনি ফুটবল বিশ্বের সুপার পাওয়ার এই দেশ। ইতালি (ফিফা ব়্য়াঙ্কিংয়ে ১৩ তম স্থান) এখনও বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে বেশ উপরে রয়েছে এবং বর্তমানে ইউরোপীয় প্লে-অফে খেলছে। তবে যদি ফিফা মহাদেশভিত্তিক কোটা না মেনে সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী সেরা দলকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এই দলটি 'ওয়াইল্ডকার্ড' হিসেবে সুযোগ পেতে পারে। তবে বেশিরভাগ সূত্রের মতে, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

৪) নাইজেরিয়া (Nigeria):

'লাকি লুজার' বা এএফসি অঞ্চলের বাইরের অন্য কোনও দল নিয়েও কিছু আলোচনা শোনা যাচ্ছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে, অন্য কোনও অঞ্চলের র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরের দিকের দলকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কোথাও কোথাও নাইজেরিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো মূলত জল্পনা বা সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা মাত্র। ফিফার নিয়ম বা বড় কোনও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার তেমন সমর্থন পাওয়া যায় না।