রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals) তাদের মালিকানায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লক্ষ্মী এন মিত্তাল এবং আদিত্য মিত্তালের নেতৃত্বে মিত্তাল পরিবার এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অধিগ্রহণের জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫,৬৬০ কোটি টাকার সমান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL) মালিকানা কাঠামোর পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে আরও একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন হল। গত মার্চ মাসে আদিত্য বিড়লা-নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পরেই, এবার রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals) তাদের মালিকানায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লক্ষ্মী এন মিত্তাল এবং আদিত্য মিত্তালের নেতৃত্বে মিত্তাল পরিবার এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অধিগ্রহণের জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫,৬৬০ কোটি টাকার সমান।

সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনাওয়ালার অংশীদারিত্বে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। এই কনসোর্টিয়ামটি মনোজ বাদলে এবং তাঁর সহযোগী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নিয়েছে। এই মূল্যায়নের আওতাভুক্ত রয়েছে রয়্যালস-এর বৈশ্বিক পোর্টফোলিও—যার মধ্যে আইপিএল দলটির পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার 'পার্ল রয়্যালস' এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের 'বার্বাডোস রয়্যালস'-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৬ সালের শেষদিকে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর মিত্তাল পরিবারের হাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ৭৫ শতাংশ মালিকানা থাকবে, অন্যদিকে পুনাওয়ালার মালিকানায় থাকবে প্রায় ১৮ শতাংশ। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ মালিকানা বাদলে-সহ বর্তমান বিনিয়োগকারীদের হাতেই থেকে যাবে। এই লেনদেনটি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি প্রচলিত শর্তাবলি এবং বিসিসিআই (BCCI), সিসিআই (CCI) ও আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। ২০০৮ সালে লিগ শুরুর সময় থেকেই রয়্যালস-এর মালিকানার প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত মনোজ বাদলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরিচালনা পর্ষদে বহাল থাকবেন।

চলতি আইপিএলে ১৫ বছর বয়সি বিস্ময়-বালক বৈভব সূর্যবংশীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে রাজস্থান রয়্যালস বর্তমানে প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে বেশ ভাল অবস্থানেই রয়েছে। ১০ দলের পয়েন্ট তালিকায় তারা বর্তমানে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে এবং তাদের ঝুলিতে রয়েছে ১২ পয়েন্ট—যা তালিকার শীর্ষে থাকা দল 'পাঞ্জাব কিংস'-এর চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট কম।

মিত্তালের ঘরে ফেরা

উত্তর রাজস্থানের সাদুলপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া লক্ষ্মী এন মিত্তালের কাছে এই চুক্তিটির একটি ব্যক্তিগত তাৎপর্যও রয়েছে। তিনি বলেন, "আমি ক্রিকেট ভালবাসি এবং আমার পরিবারের আদি নিবাস রাজস্থানেই। তাই আইপিএল-এর দলগুলোর মধ্যে রাজস্থান রয়্যালস ছাড়া অন্য কোনও দলের অংশ হতে আমি কখনই আগ্রহী হতাম না। ছাত্র থাকাকালেই আমি প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করি এবং সেই থেকে আমি এই খেলার একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। অনেক মহান ক্রিকেটারই রাজস্থান রয়্যালসের জার্সি গায়ে খেলেছেন—যাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের এমন সব কিংবদন্তি, যারা তরুণ প্রতিভাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন। এই মহান দলের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত উন্মুখ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের উল্লাস করতে ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে পিচের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি আর তর সইতে পারছি না।" আদিত্য মিত্তাল বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আইপিএল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া লিগে পরিণত হয়েছে; আর রাজস্থান রয়্যালস হল এই লিগের অন্যতম আদি ও সবচেয়ে আইকনিক দল। ব্যক্তিগতভাবে, এই মহান দলের অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত ও রোমাঞ্চিত বোধ করছি। নতুন প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে ‘রয়্যালস’-এর সুখ্যাতি রয়েছে—যা আমার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, এই ঐতিহ্য অটুট থাকবে এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের লক্ষ্যে আমরা বিশ্বের সেরা সব প্রতিভাকে কাজে লাগাব। রাজস্থান রয়্যালসকে একটি বিশ্বমানের ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে যারা সহায়তা করেছেন—খেলোয়াড়, কোচ, নেতৃত্বস্থানীয় দল এবং সর্বোপরি ভক্তবৃন্দ—আমি তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা এই দলের লালিত ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখতে এবং তাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সংকল্পবদ্ধ—হল্লা বোল!"