২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামি ও রাষ্ট্রীয় লোকদল (RLD) সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। রবিবার দিল্লিতে দু’জনের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছে, শামি কি এবার সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন?

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামি ও রাষ্ট্রীয় লোকদল (RLD) সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। রবিবার দিল্লিতে দু’জনের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছে, শামি কি এবার সরাসরি রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন? নাকি তাঁর ভাইকে নির্বাচনে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে?

আজতকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, RLD সূত্রের দাবি, আমরোহা সদর বিধানসভা আসন থেকে শামি নিজে অথবা তাঁর ভাই মহম্মদ হাসিবকে প্রার্থী করা নিয়ে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত শামি বা জয়ন্ত চৌধুরী—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মহম্মদ শামির বাড়ি আমরোহা সদর তহসিলের সহসপুর আলিনগরে। ফলে নিজের এলাকার বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। RLD সূত্রের দাবি, শামি তাঁর বড় ভাই মহম্মদ হাসিবকে আমরোহা আসন থেকে ভোটে দাঁড় করাতে আগ্রহী। হাসিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় থেকে পরিবারের কাজকর্ম দেখাশোনা করেন এবং রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। অন্যদিকে, RLD সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরী নাকি চাইছেন মহম্মদ শামিই সরাসরি আমরোহা থেকে নির্বাচনে লড়ুন। তবে এই দাবিরও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

শামির ক্রিকেট কেরিয়ারের মাঝেই নতুন জল্পনা

মহম্মদ শামি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে রয়েছেন। তিনি শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৫ সালের ৯ মার্চ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এরপর ভারতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে।

আমরোহা আসন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমরোহা বিধানসভা আসনটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজবাদী পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বিধায়ক মহবুব আলি ২০০২ সাল থেকে এই আসনে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়ে আসছেন। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির রাম সিংকে ৭১ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ২০২২ সালে মহবুব আলি পেয়েছিলেন ১,২৮,৭৩৫ ভোট। বিজেপির রাম সিং পেয়েছিলেন ৫৭,৬৯৯ ভোট। অর্থাৎ ব্যবধান ছিল ৭১,০৩৬ ভোট।

মুসলিম ভোটারদের প্রভাব

আমরোহা আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ মুসলিম ভোটা। মহম্মদ শামি তুর্ক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই সামাজিক সমীকরণও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে। তবে অন্য একটি নির্বাচনী তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে আমরোহা বিধানসভা এলাকায় মুসলিম ভোটারের অংশ প্রায় ৩৫–৪০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোটার-পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎসে পার্থক্য রয়েছে।

এখনই নিশ্চিত নয় শামির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে মহম্মদ শামির বৈঠককে কেন্দ্র করে আমরোহা থেকে তাঁর নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে শামি, তাঁর পরিবার বা RLD-র তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ফলে শামি নিজে ভোটে লড়বেন, নাকি তাঁর ভাই হাসিবকে প্রার্থী করা হবে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠক আপাতত রাজনৈতিক জল্পনারই জন্ম দিয়েছে।