Srinath on Sourav: "শৃঙ্খলা, নিয়মই তাঁর কাছে শেষ কথা। তাই সে যেই হোন।" দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা আইসিসি ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ। সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে অতীতের এক ঘটনায় তোপ দাগলেন দেশের প্রাক্তন তারকা পেসার জাভাগাল শ্রীনাথ।
Srinath on Sourav: "শৃঙ্খলা, নিয়মই তাঁর কাছে শেষ কথা। তাই সে যেই হোন।" দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা আইসিসি ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ। সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে অতীতের এক ঘটনায় তোপ দাগলেন দেশের প্রাক্তন তারকা পেসার জাভাগাল শ্রীনাথ। ২০০১ সালের ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্স টেস্টের সেই বহুচর্চিত টস বিতর্কের স্মৃতি আবার উস্কে দিলেন শ্রীনাথ। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সেই স্মরণীয় ম্যাচের টসে অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয়েকে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন তত্কালীন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে এসে শ্রীনাথ সাফ জানান, সেই সময় তিনি যদি ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় থাকতেন, তবে এই কাণ্ডের জন্য সৌরভকে কিছু ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করতেন।
সৌরভের টস বিতর্কে কী বলছেন শ্রীনাথ
শ্রীনাথের কথায়, "আমি যদি ম্যাচ রেফারি হতাম, তবে সৌরভকে কয়েকটা ম্যাচের জন্য ব্যান (নির্বাসিত) করে দিতাম।" যদিও পরে সৌরভ নিজেই এই দেরির কারণ স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিজের ব্লেজার খুঁজে পাচ্ছিলেন না বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্রিকেট ইতিহাসে সৌরভের এই মনস্তাত্ত্বিক চাল স্টিভ ওয়েকে বিচলিত করে দিয়েছিল বলে ধরা হয়, এবং সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ৩ টেস্টের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে ভারত। প্রসঙ্গত, সেই ইডেন টেস্টের ম্যাচ রেফারি ছিলেন ক্যারিবিয়ান ক্যামেরুন স্মিথ। শ্রীনাথ বলছেন স্মিথের জায়গায় তিনি থাকলে সৌরভকে নির্বাসনের মত কঠোর শাস্তিই দিতেন।
অধিনায়ক সৌরভের প্রশংসা
তবে এই কড়া মন্তব্যের পাশাপাশি সৌরভের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন শ্রীনাথ। তিনি জানান, সৌরভের মধ্যে তরুণ প্রতিভা চেনার এবং তাদের গড়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। যুবরাজ সিং, হরভজন সিং এবং বীরেন্দ্র সেওয়াগের মতো তারকাদের তুলে আনার পেছনে সৌরভের অবদানকে তিনি বিশেষ মর্যাদা দেন।
আড্ডার ছলে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ভারতীয় ক্রিকেটকে গ্রাস করা ম্যাচ-ফিক্সিং কেলেঙ্কারি এবং পরবর্তী সময়ে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর কথাও তুলে ধরেন শ্রীনাথ। তিনি বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭-৯৮ সময়কালে বিদেশে ভারতের জয়ের রেকর্ড মোটেও ভালো ছিল না। কিন্তু ১৯৯৯ সালের পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের ছবিটা বদলাতে শুরু করে। সব খেলোয়াড়ের মধ্যে একজোট হয়ে খেলার একটা জেদ তৈরি হয়েছিল। শ্রীনাথের ভাষায়, "প্রত্যেক ক্রিকেটারের মধ্যেই একটা জেদ কাজ করছিল যে, ক্রিকেটের সুনাম ফেরাতে হবে এবং বিশ্বকে দেখাতে হবে যে খেলাটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সবকিছুর ঊর্ধ্বে।"
একই সঙ্গে ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালের স্মৃতিতর্পণ করেন দেশের অন্যতম সেরা এই প্রাক্তন পেসার। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফাইনালে টসে জিতে দলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে শ্রীনাথ বলেন, "দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় আমি টসে জিতে আগে ব্যাট করার পক্ষেই মত দিয়েছিলাম, যাতে বোর্ডে বড় রান তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যায়।" যদিও অধিনায়ক সৌরভের সিদ্ধান্ত আলাদা ছিল এবং দল সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই মাঠে নেমেছিল। যদিও ফাইনালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া জয়ের মুখ দেখে।
তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে নিজের উদারতার একটি নিদর্শনও দেন শ্রীনাথ। জাহির খানের জাতীয় দলে অভিষেকের গল্প তুলে ধরে তিনি জানান, এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনের হয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে জাহিরের ৬ উইকেট নেওয়া দেখে তিনি তৎকালীন জাতীয় নির্বাচক চন্দু বোর্ডেকে তাঁর নাম সুপারিশ করেন। বোর্ডে যখন মজার ছলে প্রশ্ন করেন, জাহির এলে শ্রীনাথের জায়গায় কী হবে? শ্রীনাথ সরল উত্তর দিয়েছিলেন, "ছেলেটা যদি ভালো হয়, তবে ও আমার জায়গাই নেবে।"শ্রীনাথের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য ২০০১ সালের সেই রোমাঞ্চকর ইডেন টেস্ট এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বের দিনগুলোকে আরও একবার ক্রিকেটপ্রেমীদের চর্চার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনল।


