করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব জুড়ে সব থেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ক্রীড়া শিল্প। ইতি মধ্যেই ইউরোপের অনেক দেশে শিথিল হয়েছে লকডাউন। লকডাউন শিথিল হওয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরছে সকলে। শুরু হয়েছে খেলাধূলা শুরু করার তোরজোরও। ইতিমধ্যেই ইতালি, স্পেন,জার্মানি সহ একাধিক দেশে শুরু হয়েছে অনুশীলন। দ্রুত ফাঁকা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু করার কথাও ভাবছে দেশগুলি। এই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে থাকতে নারাজ ভারত। তাই যত শীঘ্র সম্ভব খেলাধুলো চালু করতে চায় ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোয়িয়েশন। কোন পথে, কীভাবে খেলা ধুলা শুরু করা সম্ভব তার একটি ব্লু প্রিন্ট অর্থাৎ নীল নকশা তৈরি করেছে আইওএ। 

ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা নির্মিত নীল নকশায় যে বিষয়গুলি প্রাধান্য পেয়েছে. 

১। আমাদের ধীরে ধীরে খেলার মাঠে ফিরতে হবে।
২। প্রথমে শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা যায় এমন খেলা শুরু করতে হবে।
৩। খেলার সঙ্গে যুক্ত সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
৪। ক্রীড়া, স্বাস্থ্য, গ্রাম ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের সাহায্য নেবে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
৫। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন সমর্থকদের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করবে। যাতে তাঁদের মনোভাব বোঝা যায়।
৬। খেলার মাঠে ফেরার পরামর্শ এবং উপায় সংক্রান্ত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।

এই নীল নকশার দ্বিতীয় অংশে খেলার সঙ্গে যুক্ত সব মহলের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাতে কী কী প্রশ্ন করা হবে, সেটাও বলা হয়েছে। প্রশ্নগুলি হল,

১। খেলার মাঠে ফেরার সঠিক কৌশল এবং সময় কী হবে?
২। নতুন করে খেলা শুরু করার আগে কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন?
৩। অ্যাথলিটদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং সামাজিক দুরত্ব কীভাবে বজায় রাখা সম্ভব?
৪। এখনই কি দর্শক ভরতি মাঠে খেলা সম্ভব?
৫। স্কুল, কলেজে স্থানীয় স্তরের খেলাধুলা কবে থেকে শুরু করা উচিৎ?

ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এই তৎপরতা থেকেই স্পষ্ট খেলায় ফেরার জন্য কতটা উদগ্রীব  তারা। কারণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তাদের ভাবাচ্ছে। একইসঙ্গে দিনের পর দিন বন্দি থাকায় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ছে অ্যাথলিটরাও। যদিও সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেই এগোতে চাইছে আইওএ। প্লেয়ার বা কোচদের নিরাপত্তা বা সুরক্ষা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ আইওএ কর্তারা। তবে এই নীল নকশাটি প্রাথমিক পর্যায়ের। চূড়ান্তটি ২০ মে-র মধ্যে প্রকাশ করবে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।