কঠোর প্রশাসন এবং জিরো টলারেন্স নীতির জন্য পরিচিত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শিশু, প্রতিবন্ধী এবং দুঃস্থদের প্রতি তাঁর স্নেহ, সংবেদনশীলতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বাসের এক মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছেন।
লখনউ। অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, কঠোর শৃঙ্খলা এবং নির্ণায়ক প্রশাসনের জন্য পরিচিত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, শিশুদের মাঝে একদম অন্য রূপে ধরা দেন। তাঁর স্নেহভরা হাসি এবং আন্তরিক ব্যবহার শিশুদের সহজ করে তোলে। শিশুরা দ্বিধাহীনভাবে তাদের মনের কথা বলে, নিজেদের পছন্দ জানায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিশে যায়। শিশুদের প্রতি এই আপন ভাব মুখ্যমন্ত্রী যোগীর কোমল, মানবিক এবং সহজলভ্য ব্যক্তিত্বকে সামনে নিয়ে আসে। এই কারণেই সমাজের প্রতিটি স্তরে তাঁর প্রতি আস্থা ও সংযোগ ক্রমাগত দৃঢ় হয়েছে।
কঠোর ভাবমূর্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানবিক ও সংবেদনশীল দিক
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শিশু, দুঃস্থ এবং দুর্বল শ্রেণীর সঙ্গে গভীর সংযোগ তাঁর কঠোর ভাবমূর্তির মানবিক দিকটি তুলে ধরে। এই भावनात्मक সম্পর্ক রাজ্যের ২৫ কোটি মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি বিশ্বাসকে আরও মজবুত করে। তাঁর সংবেদনশীলতা তাঁকে সমাজের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে যুক্ত করে।
জনতা দর্শন এবং মন্দির চত্বরে শিশুদের সঙ্গে আন্তরিক কথোপকথন
সোমবারের ‘জনতা দর্শন’, মকর সংক্রান্তি, गोरखनाथ মন্দির এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর শিশুদের সঙ্গে কথোপকথন প্রায়ই দেখা যায়। गोरखनाथ মন্দিরে এক শিশুকে “আর কী চাই” জিজ্ঞাসা করা এবং উত্তর শুনে অট্টহাসি দেওয়া, মুখ্যমন্ত্রীর শিশুপ্রেমের এক मासूम ও স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল।
যদিও যোগী আদিত্যনাথ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, বুলডোজার অ্যাকশন এবং কড়া প্রশাসনের জন্য পরিচিত, কিন্তু শিশুদের সঙ্গে কথোপকথন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত সমাধান তাঁর দয়ালু অভিভাবকের ভাবমূর্তিকে সামনে নিয়ে আসে।
অনন্যার সঙ্গে কথা বলা থেকে ভাইরাল ভিডিও পর্যন্ত
গোরখপুরের ভাইরাল ভিডিও হোক বা জনতা দর্শনে দুই বছরের অনন্যার সঙ্গে কথোপকথন—এগুলো কোনো এক-দুটি ঘটনা নয়। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যা মুখ্যমন্ত্রীর শিশুদের প্রতি স্নেহ এবং সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে।
মেজর-কন্যার মামলা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিলল বিচার
৩১ ডিসেম্বর এক মেজরের মেয়ে অঞ্জনা ভাট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর সমস্যা নিয়ে দেখা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ বছরের প্রথম দিনেই, সমস্যার সমাধান করান। শুধু বাড়ি দখলমুক্তই করা হয়নি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং অবিলম্বে গ্রেফতারিও হয়। এই উদাহরণ দেখায় যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শিশু, মহিলা এবং দুর্বল শ্রেণীর সঙ্গে জড়িত মামলায় কোনো দেরি করেন না।
মূক-বধির খুশি গুপ্তার গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে উঠল
কানপুরের মূক-বধির যুবতী খুশি গুপ্তার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জেদ যখন সামনে আসে, তখন তিনি তাকে ডেকে পাঠান। মুখ্যমন্ত্রী তার আঁকা ছবি গ্রহণ করেন এবং তার নিরাপদ ও শিক্ষিত ভবিষ্যতের আশ্বাস দেন। এই অভিজ্ঞতা খুশি এবং তার পরিবারের জন্য সারাজীবনের পুঁজি হয়ে ওঠে।
শিশুদের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার: মায়রা, বাচী এবং পঙ্খুড়ি
‘জনতা দর্শন’-এর মাধ্যমে অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়েছে-
- কানপুরের মায়রা, যে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, তার তৎক্ষণাৎ স্কুলে ভর্তি করানো হয়।
- মোরাদাবাদের বাচী, যে পড়তে চেয়েছিল, তাকেও বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।
- গোরখপুরের পঙ্খুড়ির ফি মকুব করে তাকে আবার স্কুলে পাঠানো হয়।
এই সিদ্ধান্তগুলি মুখ্যমন্ত্রীর শিশু কল্যাণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে।
বৃদ্ধা মায়ের যন্ত্রণায় সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ
২৯ সেপ্টেম্বরের জনতা দর্শনে কানপুরের রায়পুরওয়া থেকে আসা এক বৃদ্ধা মা তাঁর ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলের কষ্ট নিয়ে পৌঁছেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর কষ্ট শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে ছেলেকে কল্যাণ সিং সুপার স্পেশালিটি ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে পাঠান। এই সংবেদনশীলতা তাঁকে সমাজের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করে।
প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘রোশনি’ এবং পেনশনের দ্রুত ব্যবস্থা
১৭ এপ্রিলের জনতা দর্শনে মুখ্যমন্ত্রী চান্দৌলির দুই প্রতিবন্ধীকে নিজের হাতে ইলেকট্রনিক সেন্সরযুক্ত স্টিক দেন এবং তার ব্যবহারও শিখিয়ে দেন। আরেক প্রতিবন্ধীর সমস্যা শুনে ঘটনাস্থলেই কেওয়াইসি করিয়ে পেনশন প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
সংবেদনশীল মুখ্যমন্ত্রী, বিশ্বাসের প্রতীক
এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যা প্রমাণ করে যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শুধু একজন কঠোর প্রশাসকই নন, বরং শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং দুঃস্থদের সংবেদনশীল অভিভাবকও। তাঁর এই মানবিক দিকটিই সমাজে বিশ্বাস এবং সংযোগকে আরও গভীর করে তোলে।


