উত্তরপ্রদেশে MCAD প্রোগ্রামের অধীনে গোরখপুর এবং সন্ত কবীর নগরে PPIN-ভিত্তিক মাইক্রো ইরিগেশনের ৪টি পাইলট প্রজেক্ট তৈরি হচ্ছে। এতে জলের ব্যবহার ৭৫% বাড়বে এবং কৃষকরা একাধিক ফসল ফলানোর সুবিধা পাবেন।

লখনউ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ সেচ বিভাগ রাজ্যে সেচ ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ এবং জলের সঠিক ব্যবহার বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, বিভাগ মাল্টি ক্লাস্টার এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট (MCAD) প্রোগ্রামের অধীনে পূর্বাঞ্চল এলাকায় মাইক্রো ইরিগেশনকে উৎসাহ দিচ্ছে।

গোরখপুর ও সন্ত কবীর নগরে মাইক্রো ইরিগেশন পাইলট প্রজেক্ট

ইউপি সেচ বিভাগ গোরখপুর এবং সন্ত কবীর নগরে রাপ্তি ও কুয়ানো নদীর উপর মোট ৪টি ক্লাস্টারে মাইক্রো ইরিগেশনের পাইলট প্রজেক্ট তৈরি করছে। এই প্রকল্পগুলি পিপিআইএন (প্রেসারাইজড পাইপ ইরিগেশন নেটওয়ার্ক) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা পূর্বাঞ্চলে জলসম্পদের আরও ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ধান চাষের পাশাপাশি রবি এবং খরিফ ফসলও উপকৃত হবে। একই সাথে, এই উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের স্থায়ী কৃষি উন্নয়নের অভিযানকে আরও শক্তিশালী করবে।

রাপ্তি ও কুয়ানো নদীর উপর তৈরি হচ্ছে ৪টি ক্লাস্টার প্রজেক্ট

MCAD প্রোগ্রামের অধীনে গোরখপুর এবং সন্ত কবীর নগরে নিম্নলিখিত চারটি ক্লাস্টার তৈরি করা হচ্ছে-

  • গোরখপুর জেলায়
  • বাঁশগাঁও-মালওয়া ক্লাস্টার: কৌড়িরাম এলাকায় পুকুর এবং রাপ্তি নদীর উপর ভিত্তি করে
  • বরগঢ়ওয়া ক্লাস্টার: খোরাবার এলাকায় রাপ্তি নদীর উপর, ১৬১.৩৩ CCA ক্ষমতা
  • জঙ্গল কৌড়িয়া-I ক্লাস্টার: ব্রহ্মপুর এলাকায়, ১৫৭.১১ CCA ক্ষমতা

সন্ত কবীর নগর জেলায়

  • রাজধানী/প্রজাপতিপুর ক্লাস্টার: হৈসরবাজার এলাকায় কুয়ানো নদীর উপর, ২৬৪.৬২ CCA ক্ষমতা

PPIN প্রযুক্তির মাধ্যমে সমন্বিত সেচ নেটওয়ার্ক

এই সমস্ত ক্লাস্টারে প্রেসারাইজড পাইপ ইরিগেশন নেটওয়ার্ক (PPIN)-এর মাধ্যমে পুকুর, নদী এবং অন্যান্য জলের উৎসকে একীভূত করা হচ্ছে। এর ফলে মাইক্রো ইরিগেশনকে উৎসাহ দেওয়া হবে এবং সিস্টেমের জল ব্যবহারের ক্ষমতা প্রতি হেক্টরে ০.৩৫ এলপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়াটার ইউজার সোসাইটির মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে ব্যবস্থাপনা

প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি ওয়াটার ইউজার সোসাইটি (WUS) গঠন করা হবে। এই সমিতিগুলি সেচ নেটওয়ার্কের পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে কৃষকদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মালিকানা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে।

PPIN প্রযুক্তিতে জলের ব্যবহার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে

PPIN-ভিত্তিক মাইক্রো ইরিগেশন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে জলের ব্যবহার প্রায় ৭৫ শতাংশ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি জলের অপচয় কমায় এবং ফসলের কাছে সঠিক পরিমাণে জল পৌঁছে দেয়।

পূর্বাঞ্চলের কৃষকরা সরাসরি সুবিধা পাবেন

এই পাইলট প্রজেক্টগুলির মাধ্যমে শুধু গোরখপুর এবং সন্ত কবীর নগরই নয়, পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য জেলাগুলিও উপকৃত হবে। ধানের পাশাপাশি রবি ও খরিফ ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের সেচের খরচ কমবে।

ভবিষ্যতে অন্যান্য জেলাতেও এই প্রকল্প চালু হবে

আপাতত এই প্রকল্পগুলিকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করা হচ্ছে। এগুলির সফল পরিচালনার পর রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতেও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, আরকেভিওয়াই (RKVY) যোজনার পিডিএমসি (PDMC) উপাদানের অধীনে কৃষকদের ড্রিপ এবং স্প্রিংকলার-এর মতো মাইক্রো ইরিগেশন সরঞ্জামের জন্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

স্থায়ী কৃষি ও জল-সুরক্ষার দিকে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ

এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে কৃষকরা কম খরচে ভালো উৎপাদন, দীর্ঘমেয়াদী জল-সুরক্ষা এবং আধুনিক সেচ সুবিধা পাবেন। এই উদ্যোগ উত্তরপ্রদেশে স্থায়ী কৃষি উন্নয়ন এবং জল সংরক্ষণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হবে।