প্রচণ্ড গরম ও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পানীয় জল, সেচ, স্বাস্থ্য ও ত্রাণ ব্যবস্থা নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষক, জল সংরক্ষণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

লখনউ: উত্তরপ্রদেশে বাড়তে থাকা গরম এবং এই বছর স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনকে পুরোপুরি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পানীয় জল, সেচ এবং ত্রাণ কাজে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সব দপ্তরকে আগে থেকেই প্রস্তুতি সেরে রাখতে বলা হয়েছে।

খরাপ্রবণ জেলাগুলিতে বিশেষ নজরদারি, কন্ট্রোল রুম সক্রিয়

একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আগে থেকে খরাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত ১৮টি জেলার ওপর বিশেষ নজর রাখতে বলেছেন। ১৫ জুন থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ণ করতে এবং প্রয়োজনে এনডিআরএফ-এর সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, রাজ্য থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রাখতে বলা হয়েছে।

জল সংরক্ষণ ও পলি সাফাই অভিযানে জোর

মুখ্যমন্ত্রী ৩০ মে-র মধ্যে সমস্ত খাল, পুকুর এবং দিঘির পলি সাফাইয়ের কাজ শেষ করতে বলেছেন। পুকুর থেকে তোলা মাটি কুমোর এবং প্রজাপতি সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনামূল্যে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।

পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাজ্যের কোথাও যেন পানীয় জলের অভাব না হয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ প্রকল্পের পাশাপাশি ট্যাঙ্কারের মতো বিকল্প ব্যবস্থাও তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। জঙ্গল এলাকা এবং গোশালাগুলিতেও পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য সেচ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মজবুত করার ওপর জোর

কৃষকদের স্বস্তি দিতে সমস্ত নলকূপ চালু রাখা, সময়মতো মেরামত এবং সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে জলের সঠিক ব্যবহার এবং অপচয় বন্ধ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

ফসল সুরক্ষা, বীজ বিতরণ এবং বিমায় বিশেষ নজর

মুখ্যমন্ত্রী ভর্তুকিযুক্ত বীজ বিতরণ, কৃষি সংক্রান্ত পরামর্শ এবং ফসল বিমা যোজনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকরা যাতে সময়মতো ক্ষতিপূরণ পান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

খাদ্যশস্য সুরক্ষা ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ

সরকারি বণ্টন ব্যবস্থার (PDS) অধীনে দুঃস্থদের সময়মতো রেশন দেওয়া এবং খাদ্যশস্যের ভান্ডার মজবুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিট স্ট্রোক ও গরম থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রস্তুতি

হাসপাতালগুলিতে হিট স্ট্রোক এবং গরমজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম ও বিপর্যয় মোকাবিলা প্রস্তুতি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস সময়মতো সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য 'আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম' আরও মজবুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কাজে ১৯ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষিত 'আপদা মিত্র' বা বিপর্যয় মোকাবিলা বন্ধু এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

খরিফ ফসল ২০২৬-২৭-এর প্রস্তুতি এবং খালের শেষ প্রান্তে জল পৌঁছানো

খরিফ মরসুমের প্রস্তুতির পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খালের জল যাতে শেষ মাথা (টেল) পর্যন্ত পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জলের সঠিক ব্যবহার এবং কোনও এলাকায় যাতে জলের অভাব না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুকুর ভরাট এবং জলের জোগান বৃদ্ধি

বৈঠকে জানানো হয়, রাজ্যের ২৪,১৫৩টি পুকুরের মধ্যে ১৭,৯৬১টিরও বেশি পুকুর ভরাট করা হয়েছে, যা ৭০%-এরও বেশি। জলাশয়গুলিতে জলের অবস্থা গত বছরের তুলনায় ভালো।

সেচ ব্যবস্থা মজবুত করার ওপর সরকারের জোর

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, খালের পলি সাফাই এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে। কৃষকরা যাতে সময়মতো পর্যাপ্ত জল পান, তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। এই কারণে খালের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত জল পৌঁছানোর অভিযান पूरी স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের সঙ্গে কার্যকর করতে হবে।