Ram Mandir Controversy: অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। অযোধ্যায় ইউপি কংগ্রেস প্রধান অজয় রাইকে গ্রেফতার করার পরই এই বিতর্ক নতুন মোড় নেয়। এদিকে, এই ঘটনায় SIT তদন্ত চলার মধ্যেই ট্রাস্টের দুই সদস্য পদত্যাগ করেছেন। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Ram Mandir Controversy: রাম মন্দির বিতর্কে প্রতিদিনই তদন্তে জন্ম নিচ্ছে ঘটনার নতুন নতুন মোড়। এদিকে ২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে মহাসমারোহে উদ্বোধন করা রাম মন্দিরের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে কেন চুপ রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মোদীর নীরবতায় প্রশ্ন কংগ্রেসের:-

কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একদম চুপ। রমেশের মতে, "এটা দেশের কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে সরাসরি আঘাত।"

উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস প্রধান অজয় রাইকে অযোধ্যায় গ্রেফতার করার পরেই এই রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অজয় রাই দলের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে রাম জন্মভূমি মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেসের কমিউনিকেশন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ আরও অভিযোগ করেন, মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টটি কোনও সঠিক পদ্ধতি ছাড়াই গঠন করা হয়েছিল এবং এটিকে তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, "শ্রী রাম মন্দিরের লুটপাট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নীরবতা দেশের কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে সরাসরি আঘাত। মোদী সরকার কোনও জনমত ছাড়াই এই ট্রাস্ট গঠন করেছে, যাতে আরএসএস সদস্যরাও রয়েছেন। এরপর পুরো ট্রাস্টকে আরটিআই-এর বাইরে রাখা হয়। মোদীজি, আপনার নীরবতা ভাঙুন।"

অযোধ্যায় গ্রেফতার উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস প্রধান

এর আগে, অজয় রাই একটি এক্স পোস্টে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে "চড়াভা চোর" (প্রণামী চোর) বলে কটাক্ষ করেন। রাই দাবি করেন, তিনি অযোধ্যায় পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাঁকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার নিন্দা করে কংগ্রেস নেতা এটিকে বিজেপির স্বৈরাচারের "চরম পর্যায়" বলে অভিহিত করেছেন।

রাই বলেন, "বিজেপি সরকারের স্বৈরাচার চরমে! উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলের আজ, ৩০ জুন, অযোধ্যায় ভগবান শ্রী রামের পুজো ও আশীর্বাদ নিতে যাওয়ার কথা ছিল। আমি অযোধ্যায় পৌঁছতেই বিজেপি সরকার এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যে পুলিশ আমাকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করে তাদের জিপে করে নিয়ে যাচ্ছে। অযোধ্যায় জমি কেলেঙ্কারি এবং অনুদান চুরিতে জড়িত এই 'প্রণামী চোরেরা' রামভক্তদের এখানে আসা নিয়ে এত ভয় পাচ্ছে কেন? যারা ভগবানের নামে দোকান চালায়, তাদের বিশ্বাস রক্ষার এই কাপুরুষোচিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা থামবও না!"

এদিকে, রাজ্য কংগ্রেস আরও অভিযোগ করেছে যে, রাইয়ের সঙ্গে অযোধ্যায় যাওয়া প্রতাপগড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি নীরজ ত্রিপাঠীকেও পুলিশ আটক করেছে। দলের তরফে বলা হয়েছে, ভক্তদের ভগবান রামের পুজো করতে বাধা দেওয়া "অসাংবিধানিক" এবং সমস্ত কংগ্রেস নেতার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

৮ অভিযুক্ত জেলে; ট্রাস্ট সদস্যদের পদত্যাগ

সোমবার, অযোধ্যার একটি স্থানীয় আদালত অনুদান কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত আটজনকেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের তহবিল এবং প্রণামী নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোরকদমে তদন্ত শুরু করে। এরপরই আদালতের এই সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে, শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্র শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। রাম মন্দিরের অনুদান নয়ছয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সোমবার এই তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ চম্পত রাইয়ের বয়ান রেকর্ড করেছে। গত ২৫ জুন অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান নয়ছয়ের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।