যোগী সরকারের 'ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট–ওয়ান কুইজিন' মডেলের অধীনে উত্তরপ্রদেশের ১৮টি মণ্ডলকে কুইজিন ক্লাস্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী খাবার ব্র্যান্ড পরিচিতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং ফুড ট্যুরিজম নতুন গতি পাবে।

লখনউ। উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার রাজ্যের সমৃদ্ধ খাদ্য ঐতিহ্যকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রস্তাবিত 'ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট–ওয়ান কুইজিন' (ODOC) মডেলের অধীনে রাজ্যের সমস্ত ১৮টি মণ্ডলকে কুইজিন ক্লাস্টার হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল প্রতিটি জেলার ঐতিহ্যবাহী ও বিশেষ খাবারগুলিকে একটি সংগঠিত পরিচয়, আধুনিক সুবিধা এবং উন্নত বাজার সরবরাহ করা।

প্রতিটি মণ্ডল হবে কুইজিন ক্লাস্টার, স্থানীয় স্বাদ পাবে নতুন মঞ্চ

কুইজিন ক্লাস্টার মডেলের অধীনে, প্রতিটি মণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলির প্রধান ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলি চিহ্নিত করা হবে। গুণমান উন্নয়ন, আধুনিক প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণনের মাধ্যমে এগুলিকে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী স্বাদ সংরক্ষিত থাকবে এবং আধুনিক গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী সেগুলি পরিবেশন করা যাবে।

পেঠা, পেঁড়া, লিট্টি-চোখা এবং সিঙাড়া হবে উত্তরপ্রদেশের ফুড ব্র্যান্ড

এই প্রকল্পের অধীনে আগ্রার পেঠা, মথুরার পেঁড়া, গোরখপুরের লিট্টি-চোখা, কানপুরের সিঙাড়া এবং বিভিন্ন জেলার লাড্ডুর মতো জনপ্রিয় খাবারগুলিকে রাজ্য-স্তরের ফুড ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এদের পরিচিতি আর শুধু স্থানীয় বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে পৌঁছে যাবে।

ফুড স্টার্টআপ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা উৎসাহ পাবে

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ফুড স্টার্টআপ, MSME এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্রমাগত শক্তিশালী করে চলেছে। কুইজিন ক্লাস্টার মডেলের অধীনে ফুড প্রসেসিং ইউনিট, প্যাকেজিং সুবিধা, কোল্ড চেইন, গুণমান পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর ফলে যুবক ও মহিলারা স্বরোজগার এবং উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সুযোগ পাবেন।

ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসের ফলে বিনিয়োগ বাড়বে

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের শিল্প-বান্ধব নীতি, সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম এবং ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসের সরাসরি প্রভাব খাদ্য খাতে দেখা যাবে। ODOC মডেলের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদকদের FSSAI সহায়তা, ব্র্যান্ডিং সাপোর্ট এবং মার্কেট লিঙ্কেজ প্রদান করা হবে, যাতে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তাদের পণ্য তৈরি করতে পারে।

কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং ফুড ট্যুরিজম নতুন গতি পাবে

কুইজিন ক্লাস্টার-ভিত্তিক উন্নয়নের ফলে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ, স্থানীয় বিনিয়োগ এবং ফুড ট্যুরিজম বাড়বে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এবং প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ODOC কুইজিনকে উৎসাহিত করা হবে, যার ফলে উত্তরপ্রদেশ একটি ফুড ডেস্টিনেশন স্টেট হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।