Blood Moon:মহাজাগতিক এক বিরল ও মহিমাময় দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে সমগ্র বিশ্ব। অগাস্টের শেষেই আকাশে ফুটে উঠতে চলেছে এক অনন্য রূপের পূর্ণিমার চাঁদ, ‘ব্ল্যাড মুন’ হিসেবে পরিচিত। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত প্রস্ফুটিত থাকবে এই অনন্য দৃশ্যটি।
Blood Moon: মহাজাগতিক এক বিরল ও মহিমাময় দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে সমগ্র বিশ্ব। অগাস্টের শেষেই আকাশে ফুটে উঠতে চলেছে এক অনন্য রূপের পূর্ণিমার চাঁদ, যা "ব্ল্যাড মুন" বা রক্তাভ চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৭ অগাস্ট সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ২৮ অগাস্ট ২০২৬-এর ভোররাত পর্যন্ত প্রস্ফুটিত থাকবে এই অনন্য মহাজাগতিক দৃশ্যটি। বিশ্বের প্রায় ৩৬০ কোটি মানুষ, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৪.৪ শতাংশ এই বিরল দৃশ্য সরাসরি চাক্ষুষ করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।
পূর্ণিমার চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশই ঢেকে যাবে ঘন অন্ধকারে
গ্রহণের চরম মুহূর্তে চাঁদ যখন সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর ছায়ায় প্রবিষ্ট হবে, তখন পূর্ণিমার চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশই ঢেকে যাবে ঘন অন্ধকারে। কিন্তু আলো আঁধারির এই খেলায় চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার বদলে ধারণ করবে এক গাঢ় কমলা-লাল বা রক্তাভ রূপ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে চাঁদের বুকে গিয়ে পড়া বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোই চাঁদকে এই মায়াবী রূপ দান করে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে আকাশে স্পষ্ট দেখা মিলবে এই অলৌকিক দৃশ্যের। মহাকাশপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই দুর্লভ ব্ল্যাড মুন ঘিরে উৎসাহের পারদ তুঙ্গে।
কীভাবে ঘটে 'ব্ল্যাড মুন' ও চন্দ্রগ্রহণ?
সাধারণত সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ যখন মহাকাশে এক সরলরেখায় অবস্থান করে এবং সূর্যের আলো চাঁদে পৌঁছাতে পৃথিবীর বাধা তৈরি হয়, তখনই চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। যদিও তাত্ত্বিকভাবে প্রতি পূর্ণিমাতেই গ্রহণ হওয়ার কথা, কিন্তু পৃথিবীর কক্ষপথের সাথে চাঁদের কক্ষপথের প্রায় ৫ ডিগ্রি ব্যবধান থাকায় এমনটা ঘটে না। গ্রহণের সময় সূর্যরশ্মি যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ধার ঘেঁষে প্রসারিত হয়, তখন নীল ও অন্যান্য ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বা শোষিত হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো বায়ুমণ্ডল ভেদ করে বেঁকে গিয়ে সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। এর ফলেই গ্রহণের সময় চাঁদ এক গাঢ় রক্তাভ ছায়া ধারণ করে।
ভারত থেকে দেখা যাবে কি
অগাস্টের এই রক্তাভ চন্দ্রগ্রহণটি (Blood Moon) ভারত থেকে সরাসরি সম্পূর্ণ দেখার সম্ভাবনা বেশ কম। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহণটির সিংহভাগ সময় ভারতের আকাশে চাঁদ দিগন্তের নিচে অবস্থান করবে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার আকাশেই এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দৃশ্যমান হবে। ভারতের পশ্চিম প্রান্ত বা পশ্চিম এশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন কিছু অঞ্চল থেকে একেবারে শেষ মুহূর্তে চাঁদের অস্ত যাওয়ার সময় সামান্য কিছুটা পেনামব্রাল (উপচ্ছায়াকালীন) অংশ দৃশ্যমান হতে পারে। তবে গ্রহণের মূল ৯৬ শতাংশ লালচে বা রক্তাভ রূপ ভারতের কোনো অঞ্চল থেকেই খালি চোখে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে না। তাই ভারতীয় মহাকাশপ্রেমীদের এই অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্যটি চাক্ষুষ করতে প্রধানত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্পেস এজেন্সি ও লাইভ স্ট্রিম প্ল্যাটফর্মের ওপরই নির্ভর করতে হবে।
২৭ ও ২৮ অগাস্টের এই চন্দ্রগ্রহণটির ভারতীয় সময় (IST) অনুযায়ী সূচি নিচে দেওয়া হলো:
গ্রহণ শুরু (পেনামব্রাল বা উপচ্ছায়াকালীন পর্ব): ২৭ অগাস্ট, রাত ১০:৫৩ (ভারতীয় সময়)
আংশিক গ্রহণ শুরু: ২৭ অগাস্ট, রাত ১১:৫৮ (ভারতীয় সময়)
সর্বোচ্চ বা পিক ফেজ (৯৬% গ্রহণ/ব্ল্যাড মুন): ২৮ অগাস্ট, রাত ১:৪২ (ভারতীয় সময়)
আংশিক গ্রহণ সমাপ্তি: ২৮ অগাস্ট, রাত ৩:২১ (ভারতীয় সময়)
গ্রহণ সম্পূর্ণ সমাপ্তি: ২৮ অগাস্ট, ভোর ৪:২৬ (ভারতীয় সময়)
(বিশেষ তথ্য): ভারতীয় সময় অনুযায়ী এটি ২৭ অগাস্ট মধ্যরাত থেকে ২৮ অগাস্টের ভোররাত পর্যন্ত চললেও, ভারতে তখন চাঁদ দিগন্তের নিচে অবস্থান করায় সরাসরি দৃশ্যমান হবে না।
চন্দ্রগ্রহণের মূল পর্ব ও সময়সীমা:
এই বিশেষ গ্রহণ প্রক্রিয়াটি মোট ৫ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট ধরে চলবে। পুরো ঘটনাটি তিনটি মূল পর্বে বিভক্ত:
পেনামব্রাল বা উপচ্ছায়া পর্ব: স্থায়িত্ব প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
আংশিক গ্রহণ পর্ব: স্থায়িত্ব ১ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।
সর্বোচ্চ বা পিক ফেজ (৯৬% ছায়া): স্থায়িত্ব ১ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।
এটি চলিত বছরের বিশেষ "গ্রহণ মরশুম" বা 'অ্যালিপস সিজন'-এর অংশ। এর আগে গত ১২ অগাস্ট একটি অলৌকিক সূর্যগ্রহণ দেখেছিল পৃথিবী। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনার পর পরবর্তী সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য বিশ্ববাসীকে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।


