দিনরাত ChatGPT-তে প্রশ্ন করছেন? জানেন কি ১০০ শব্দের একটি ইমেল লিখতে AI খরচ করে ৫১৯ মিলিলিটার জল, যা এক বোতল জলের সমান। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আমরা ভাবি AI মানেই হাওয়ায় ভাসা একটা সফটওয়্যার, যার কোনও ওজন নেই, জল লাগে না। মন খারাপ হলে গল্প, কাজের ইমেল, শরীর খারাপের টিপস - সব কিছুতেই ভরসা ChatGPT। কিন্তু এই প্রতিটি উত্তরের পিছনে যে কতটা জল বাষ্প হয়ে যাচ্ছে, তা জানলে চমকে যাবেন।

গবেষণা বলছে, ChatGPT দিয়ে ১০০ শব্দের একটি সাধারণ ইমেল লিখতে খরচ হয় প্রায় ৫১৯ মিলিলিটার জল, অর্থাৎ একটা স্ট্যান্ডার্ড জলের বোতলের সমান। এই তথ্য উঠে এসেছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইডের গবেষক পেংফেই লি ও শাওলেই রেন-এর ২০২৫ সালের পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র "Making AI Less Thirsty" থেকে, যা প্রকাশিত হয়েছে Communications of the ACM জার্নালে।

কেন জল লাগে?

এর পিছনে রয়েছে দুটো কারণ। এক, ডেটা সেন্টারে হাজার হাজার GPU দিনরাত চলায় প্রচণ্ড গরম হয়। সেই সার্ভার ঠান্ডা রাখতে কুলিং টাওয়ারে জল বাষ্পীভূত করা হয়। দুই, ওই ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য যে বিদ্যুৎ লাগে, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতেও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রচুর জল লাগে। দুটো মিলিয়েই এই ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট।

শুধু একটা ইমেল নয়, আসল ভয়টা অন্য জায়গায়। গবেষকদের মতে, ১০-৫০ টা প্রশ্ন-উত্তরের একটা লম্বা চ্যাটে এক বোতল জল খরচ হয়। সংখ্যাটা ছোট মনে হলেও যখন কোটি কোটি মানুষ দিনে বিলিয়ন বিলিয়ন বার AI ব্যবহার করছে, তখন হিসেবটা ভয়াবহ। তাদের অনুমান, ২০২৭ সালের মধ্যে শুধু AI-এর জন্য বিশ্বে বছরে ৪.২ থেকে ৬.৬ বিলিয়ন কিউবিক মিটার জল তোলা হবে, যা প্রায় গোটা যুক্তরাজ্যের বার্ষিক জল ব্যবহারের অর্ধেক।

তবে OpenAI-এর CEO স্যাম অল্টম্যান ২০২৫ সালের জুনে দাবি করেছিলেন, গড়ে একটি ChatGPT কোয়েরিতে মাত্র ০.৩২ মিলিলিটার জল লাগে। ফারাকটা হচ্ছে হিসেবের পদ্ধতিতে - কেউ শুধু ডেটা সেন্টারের সরাসরি জল ধরছেন, কেউ বিদ্যুৎ তৈরির পরোক্ষ জলও যোগ করছেন।

তাই পরেরবার AI-কে টুক করে কিছু জিজ্ঞাসা করার আগে একবার ভাবুন, আপনার স্ক্রিনে আসা ওই দুই লাইন উত্তরের জন্য কোথাও একটা কুলিং টাওয়ার থেকে এক বোতল জল হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।