Fridge Explosion: যে ৭টি ভুলের কারণে আপনার ফ্রিজও ব্লাস্ট হতে পারে! সাবধান হোন
Fridge Explosion: ফ্রিজে শর্ট সার্কিট, গ্যাস লিক বা ভুল ইলেকট্রিক কানেকশনের মতো সমস্যা থেকে আগুন লাগতে পারে বা ফ্রিজ ব্লাস্ট হতে পারে। ফ্রিজ ব্যবহারের সময় যে ৭টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, চলুন দেখে নিই।

১. ফ্রিজ কি সত্যিই ব্লাস্ট হয়? জেনে নিন আসল কারণ!
ফ্রিজ ব্লাস্ট হতে পারে? কথাটা শুনে একটু অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ফ্রিজের গ্যাস, ইলেকট্রিক কানেকশন বা কম্প্রেসারের গোলমাল থেকে আগুন লাগা বা ব্লাস্ট হওয়ার মতো বিপদ ঘটতে পারে। আজকালকার অনেক আধুনিক ফ্রিজে R600a (আইসোবিউটেন) নামের কুলিং গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এই গ্যাস খুব সহজে আগুন ধরে যায়। তাই কুলিং সিস্টেমে কোনো ড্যামেজ হলে আর গ্যাস লিক করলে, তার সঙ্গে সামান্য স্পার্ক হলেই বড় বিপদ হতে পারে। তাই ফ্রিজ ব্যবহারের সময় কোন কোন বিষয়গুলো একদমই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়, তা জানা খুব জরুরি।

২. ছেঁড়া বা ড্যামেজ তার থেকে বড় বিপদ!
ফ্রিজের তার বা প্লাগে যদি কোনো কাটা দাগ, গলে যাওয়া প্লাস্টিক বা পোড়া দাগ দেখেন, তবে সেটাকে হালকাভাবে নেবেন না। ড্যামেজ তার থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে, ফ্রিজে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে। তার ছিঁড়ে গেলে নিজে নিজে টেপ জড়িয়ে চালানোর চেয়ে একজন ভালো ইলেকট্রিশিয়ান ডেকে ঠিক করানোই সবচেয়ে নিরাপদ। প্লাগ বা সকেট যদি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তবে সেটাও এড়িয়ে যাবেন না।
৩. এক সকেটে অনেকগুলো প্লাগ গুঁজে রাখবেন না!
ফ্রিজ যে সকেটে লাগানো আছে, সেখানে মাল্টিপ্লাগ বা এক্সটেনশন বোর্ড লাগিয়ে মিক্সি, মাইক্রোওয়েভ বা কুকারের মতো বেশি পাওয়ারের জিনিস চালানো একদমই উচিত নয়। এক লাইনে অতিরিক্ত লোড পড়লে সকেট বা প্লাগ গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ফ্রিজের জন্য সবসময় আলাদা ও ভালো মানের ওয়াল সকেট ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। কোম্পানিগুলোও ফ্রিজের জন্য এক্সটেনশন বোর্ড বা কমন সকেট ব্যবহার করতে বারণ করে।
৪. ছুরি দিয়ে ফ্রিজের বরফ ভাঙতে যাবেন না!
পুরনো মডেলের ফ্রিজের ডিপ ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমাটা খুব সাধারণ একটা সমস্যা। অনেকেই তাড়াতাড়ি বরফ পরিষ্কার করতে ছুরি বা ধারালো কিছু ব্যবহার করেন। এটা কিন্তু মারাত্মক বিপজ্জনক একটা কাজ। বরফ ভাঙার সময় ছুরি যদি ভুল করে কুলিং টিউবে লেগে যায়, তাহলে সেখান থেকে গ্যাস লিক হতে পারে। যেসব ফ্রিজে R600a-এর মতো দাহ্য গ্যাস থাকে, সেখানে এই বিষয়টা আরও বেশি খেয়াল রাখা দরকার। বরফ জমলে ম্যানুয়ালে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী ফ্রিজ ডিফ্রস্ট করুন। ছুরি বা স্ক্রু-ড্রাইভারের মতো ধারালো জিনিস একদম ব্যবহার করবেন না।
৫. ফ্রিজের গ্যাস লিক করলে কী করবেন?
ফ্রিজের কুলিং সিস্টেম ড্যামেজ হলে গ্যাস লিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি আপনার মনে হয় গ্যাস লিক করছে, তাহলে আশেপাশে দেশলাই, লাইটার বা আগুন জ্বালাতে পারে এমন কোনো জিনিস ব্যবহার করবেন কেজি করবেন না। আর নিজে নিজে ফ্রিজের কুলিং টিউব ঠিক করার চেষ্টাও করবেন না। গ্যাস লিক বা কুলিং সিস্টেম ড্যামেজ হয়েছে সন্দেহ হলে, ঘরের জানালা-দরজা খুলে হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা করুন এবং একজন ভালো টেকনিশিয়ান ডেকে চেক করান। সবচেয়ে বড় কথা, লিক সন্দেহ হলে আগুন লাগতে পারে এমন যেকোনো কাজ থেকে দূরে থাকা জরুরি।
৬. দেওয়ালের সঙ্গে একদম ঘেঁষে ফ্রিজ রাখবেন না!
ফ্রিজের পিছনের দিকে কম্প্রেসারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্টস থাকে। ফ্রিজ চলার সময় এগুলো থেকে তাপ তৈরি হয়। সেই তাপ বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে যদি ফ্রিজ দেওয়ালের সঙ্গে একদম ঘেঁষে রাখেন, তাহলে হাওয়া চলাচলে সমস্যা হতে পারে। তার ফলে, যে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজ ব্লাস্ট হয়ে যাবে, তা নয়। তবে ঠিকমতো হাওয়া চলাচল না করলে ফ্রিজের পারফরম্যান্স আর হিট ম্যানেজমেন্টের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই আপনার ফ্রিজের ম্যানুয়ালে যতটা ফাঁকা জায়গা রাখার কথা বলা আছে, সেটা মেনে চলুন। তাই ফ্রিজের পিছনে জিনিসপত্র জড়ো করে রাখাও এড়িয়ে চলুন।
৭. এই লক্ষণগুলো দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হোন!
ফ্রিজে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার আগেই বেশ কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা যায়।
- প্লাগ বা সকেট অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া
- প্লাস্টিক বা তার পোড়া গন্ধ বেরোনো
- ফ্রিজের পিছন থেকে অদ্ভুত কোনো আওয়াজ আসা
- ফ্রিজ চললে বারবার ইলেকট্রিক ‘ট্রিপ’ করে যাওয়া
- বারবার পাওয়ার কাট হওয়া
- ফ্রিজের মেটাল বডিতে হাত দিলে শক লাগা
এর মধ্যে কোনো একটা লক্ষণ দেখলেও ছোট সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। বিশেষ করে ফ্রিজের বডিতে হাত দিলে যদি শক লাগে, তবে বুঝতে হবে আর্থিং বা শর্ট সার্কিটের সমস্যা আছে। সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজ বন্ধ করে একজন ভালো ইলেকট্রিশিয়ান ডেকে চেক করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

