AI ডীপফেক নিয়ে নিয়ম: ভারত সরকার AI-ডীপফেক কন্টেন্টের ওপর কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে আপত্তিকর কন্টেন্ট ৩ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, AI দিয়ে তৈরি বা এডিট করা কন্টেন্টে স্পষ্ট লেবেলিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

AI ডীপফেক কন্টেন্ট নিয়ে নতুন নিয়ম: ভারত সরকার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং ডীপফেক কন্টেন্টের ওপর এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে, যার অধীনে এখন থেকে AI দিয়ে তৈরি বা এডিট করা কন্টেন্টে স্পষ্টভাবে লেবেল লাগানো বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, যদি কোনও কন্টেন্ট আপত্তিকর বা বেআইনি বলে প্রমাণিত হয়, তবে প্ল্যাটফর্মগুলিকে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে তা সরাতে হবে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, AI এবং ডীপফেকের নামে প্রতারণা, জাল ভিডিও, ভুল তথ্য এবং পরিচয় চুরির মতো ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।

সরকারের নতুন AI এবং ডীপফেক নিয়মগুলি কী কী

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিয়মগুলি কার্যকর হবে। এর অধীনে সরকার 'সিন্থেটিক্যালি জেনারেটেড ইনফরমেশন (SGI)'-কে ভারতের ডিজিটাল আইনের আওতায় এনেছে। এর মানে হল, AI দিয়ে তৈরি বা AI দিয়ে এডিট করা অডিও, ভিডিও এবং ছবি, যা দেখতে আসলের মতো এবং সাধারণ ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করতে পারে, সেগুলি এখন সরাসরি আইনের আওতায় আসবে। সরকারের মতে, ডীপফেক এবং AI কন্টেন্টের ব্যবহার দ্রুত জালিয়াতি, বদনাম করা, ভুল পরিচয় তৈরি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কাজে বাড়ছে, তাই এর ওপর কড়া নজরদারি জরুরি ছিল।

AI কন্টেন্টে বাধ্যতামূলক লেবেলিং এবং ট্রেসেবিলিটি

নতুন নিয়মে AI কন্টেন্টে লেবেলিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল ইন্টারমিডিয়ারিকে নিশ্চিত করতে হবে যে AI দিয়ে তৈরি বা এডিট করা কন্টেন্ট পরিষ্কার, স্পষ্ট এবং প্রধানভাবে 'AI-Generated' বা 'AI-Altered' হিসেবে চিহ্নিত থাকে। এছাড়াও, যেখানে প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব, সেখানে প্ল্যাটফর্মগুলিকে কন্টেন্টে পার্সিস্টেন্ট মেটাডেটা বা ডিজিটাল আইডেন্টিটি চিহ্ন যোগ করতে হবে, যাতে এটি কোন প্ল্যাটফর্ম বা সিস্টেম থেকে এসেছে তা জানা যায়। বিশেষ বিষয় হল, এই লেবেল বা মেটাডেটা সরানো বা তাতে কোনও রকম পরিবর্তন করার অনুমতি থাকবে না।

ব্যবহারকারীর ঘোষণা এবং প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব

সরকার শুধু ব্যবহারকারীর ওপর নয়, প্ল্যাটফর্মগুলির ওপরও দায়িত্ব চাপিয়েছে। এখন থেকে কোনও ব্যবহারকারী কন্টেন্ট আপলোড করার সময় তাকে ঘোষণা করতে হবে যে সেই কন্টেন্টটি AI দিয়ে তৈরি কি না। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে অটোমেটেড টুলস এবং ভেরিফিকেশন সিস্টেম লাগাতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়। যদি কোনও প্ল্যাটফর্ম সঠিক লেবেলিং ছাড়া AI কন্টেন্ট প্রকাশ হতে দেয়, তবে তাকে আইনি পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে হতে পারে।

কন্টেন্ট সরানোর সময়সীমা আরও কমানো হল

সরকার কন্টেন্ট মডারেশনের সময়সীমাও অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এখন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে, যা আগে ৩৬ ঘণ্টা ছিল। এছাড়া, কিছু অন্যান্য ক্ষেত্রে উত্তর দেওয়ার সময়সীমা ১৫ দিন থেকে কমিয়ে ৭ দিন এবং ২৪ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ১২ ঘণ্টা করা হয়েছে। স্পষ্টতই, সরকার চায় যে ভুল এবং ক্ষতিকারক কন্টেন্টের ওপর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বেআইনি AI কন্টেন্টের ওপর জিরো টলারেন্স

নতুন নিয়মে এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে যদি AI-এর ব্যবহার কোনও বেআইনি কার্যকলাপের জন্য হয়, তবে তাকে সাধারণ অপরাধের মতোই গণ্য করা হবে। এর মধ্যে শিশুদের সঙ্গে সম্পর্কিত আপত্তিকর কন্টেন্ট, অশ্লীল বা অভদ্র সামগ্রী, জাল পরিচয়, মিথ্যা ইলেকট্রনিক রেকর্ড, অস্ত্র বা বিস্ফোরক সম্পর্কিত কন্টেন্ট অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলিকে শুধু কন্টেন্ট সরালেই হবে না, বরং তা তৈরি এবং ছড়ানো বন্ধ করার জন্যও ব্যবস্থা নিতে হবে।