Moon Ice: চাঁদের মাটির নীচে সম্ভাব্য বরফের সন্ধান পেল ISRO, সৌজন্যে চন্দ্রযান-২
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র চন্দ্রযান-২ অরবিটার নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিয়েছে, যা চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের পৃষ্ঠের নীচে বরফের সম্ভাব্য উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র চন্দ্রযান-২ অরবিটার নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিয়েছে, যা চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের পৃষ্ঠের নীচে বরফের সম্ভাব্য উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে। এই তথ্য এসেছে চন্দ্রযান-২-এ থাকা ডুয়াল ফ্রিকোয়েন্সি সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (DFSAR) থেকে, যা এল- এবং এস-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিচালিত একটি মাইক্রোওয়েভ ইমেজিং যন্ত্র। এটি চন্দ্রপৃষ্ঠ অধ্যয়নের জন্য ব্যবহৃত প্রথম সম্পূর্ণ পোলারিম্যাট্রিক রাডার সিস্টেম।

ইসরোর প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, চাঁদের মেরুতে স্থায়ীভাবে ছায়াযুক্ত অঞ্চলে (PSRs) বরফের সম্ভাব্য উপস্থিতি মিলেছে। এই অঞ্চলগুলিতে কখনও সূর্যের আলো পৌঁছয় না এবং তাপমাত্রা প্রায় ২৫ কেলভিন (প্রায় -২৪৮° সেলসিয়াস) পর্যন্ত নেমে যাওয়ায় অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে। এটি এই অঞ্চলগুলিকে সম্ভাব্য ফাঁদে পরিণত করে যেখানে কোটি কোটি বছর ধরে জলের বরফ সংরক্ষিত থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা গর্তগুলো অধ্যয়নের জন্য উন্নত রাডার পোলারিমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের চারটি স্থায়ীভাবে ছায়াযুক্ত গর্তের তলদেশের নীচে ভূগর্ভস্থ বরফের সম্ভাব্য উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছেন।
তারা রাডার ডেটা ব্যবহার করে চাঁদে সম্ভাব্য ভূগর্ভস্থ বরফ শনাক্ত করার একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিতে সার্কুলার পোলারাইজেশন রেশিও (CPR) এবং ডিগ্রি অফ পোলারাইজেশন (DOP) মান ব্যবহার করা হয়। চাঁদের পৃষ্ঠ বা ভূগর্ভস্থ পদার্থের সংস্পর্শে আসার পর প্রতিফলিত রাডার সংকেতের কতটুকু তার মূল পোলারাইজেশন ধরে রাখে, তা DOP পরিমাপ করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১-এর বেশি CPR মান এবং ০.১৩-এর কম DOP মান চাঁদের পৃষ্ঠের নীচে চাপা পড়ে থাকা বরফের স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিক্ষেপণ বিন্যাস নির্দেশ করতে পারে।
মহাকাশ সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, "এই পদ্ধতিটি পৃষ্ঠের অমসৃণতার কারণে সৃষ্ট রাডার প্রতিক্রিয়া থেকে প্রকৃত বরফের চিহ্নগুলোকে আলাদা করতে সাহায্য করে।" অধ্যয়ন করা গর্তগুলোর মধ্যে ফাউস্টিনি গর্তের ভিতরে অবস্থিত ১.১ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি গর্তে ভূগর্ভস্থ বরফের বিশেষ জোরাল ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই প্রমাণ শুধু রাডার ডেটা দ্বারাই সমর্থিত নয়, বরং এর স্বতন্ত্র লোবেট-রিম মরফোলজিক্যাল ক্যারেক্টারিস্টিকস দ্বারাও সমর্থিত।
লোবেট-রিম মরফোলজি বলতে একটি প্রবাহ-সদৃশ বা খণ্ডিত চেহারাকে বোঝায়, যা ভূপৃষ্ঠের নীচে থাকা বরফ-সমৃদ্ধ পদার্থ কোনও সংঘর্ষের ফলে আলোড়িত হলে তৈরি হতে পারে। ইসরো বলেছে, এই আবিষ্কারগুলো চাঁদের মেরু অঞ্চল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন দিক খুলে দিতে পারে। ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানগুলোর জন্য এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে অবতরণ এবং ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন (ISRU) কার্যক্রমের জন্য সম্ভাব্য বরফ-সমৃদ্ধ অঞ্চল শনাক্তকরণ।
ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযান—চন্দ্রযান-২—২০১৯ সালের ২২ জুলাই উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। যদিও ল্যান্ডারটি সফলভাবে 'সফট ল্যান্ডিং' করতে পারেনি, তবুও এর অরবিটারটি এখনও সচল রয়েছে এবং চাঁদের কক্ষপথ থেকে মূল্যবান বৈজ্ঞানিক তথ্য পাঠিয়ে চলেছে। ২০২৩ সালে ইসরো চন্দ্রযান-৩-এর মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর সন্নিকটে সফলভাবে অবতরণ করে। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ভারতই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পৌঁছনোর গৌরব অর্জন করে।