না রিং প্রকল্প অনুযায়ী চাঁদের নিরক্ষরেখা বরাবর একটি বিশাল সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা করা হবে। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌর বলয়ের প্রস্থ হবে মোটামুটি ২৫০ মাইল এবং এটি চাঁদের চারদিকে প্রায় ৬৮০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত হবে। আর পুরো বলয়জুড়ে থাকবে অসংখ্য সৌর প্যানেল। 

জাপানের ‘শিমিজু কর্পোরেশন’ (Shimizu Corporation) চাঁদকে ঘিরে ১১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সোলার প্যানেলের বলয় বা ‘লুনা রিং’ (Luna Ring) তৈরির এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনা করেছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো চাঁদের বুকে ২৪ ঘণ্টা অবিরাম সৌরশক্তি উৎপাদন করে মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে পৃথিবীতে পাঠানো, যা পৃথিবীর আজীবন জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের (Electricity) চাহিদা মেটাতে পৃথিবীর বাইরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সেই সূত্রে জাপানের একটি সংস্থা এবার এমন এক পরিকল্পনা সামনে আনলো, যা বাস্তবায়িত হলে গোটা বিশ্বের বিদ্যুৎ সরবরাহের ধরন বদলে যেতে পারে। জানা যাচ্ছে, জাপানের নির্মাণ সংস্থা Shimizu Corporation এই প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে, যেটির নাম লুনা রিং (Luna Ring)।

জাপানের ‘লুনা রিং’ মহাপরিকল্পনা বিস্তারিত:

* মূল ধারণা (Concept): চাঁদের নিরক্ষরেখা বরাবর প্রায় ১১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৌর প্যানেলের একটি বেল্ট বা বলয় স্থাপন করা।

* কেন চাঁদ? চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, তাই সূর্যের আলো সরাসরি প্যানেলে পড়ে এবং পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতায় (efficiency) বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এছাড়া চাঁদে কোনো মেঘ বা আবহাওয়ার তারতম্য নেই, ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

* বিদ্যুৎ পরিবহন: উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎকে মাইক্রোওয়েভ এবং লেজার রশ্মিতে রূপান্তরিত করে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হবে। পৃথিবীর রিসিভিং স্টেশনগুলো সেই শক্তি গ্রহণ করে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ তৈরি করবে।

* নির্মাণ কৌশল: এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। চাঁদের মাটি ও খনিজ সম্পদ (যেমন- কনক্রিট, কাঁচ) ব্যবহার করেই প্যানেল তৈরি করা হবে, যাতে পৃথিবী থেকে ভারী সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার খরচ কমে।

* লক্ষ্য ও সময়কাল: এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সুবিধা ও সম্ভাবনা:

১. আজীবন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ: এটি একটি পরিবেশবান্ধব এবং প্রায় অনিঃশেষ বা চিরস্থায়ী শক্তির উৎস।

২. শক্তি সংকট সমাধান: পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম।

৩. সবুজ পৃথিবী: জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমে যাবে, ফলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে।

যদিও এটি বর্তমানে একটি কল্পবিজ্ঞানের মতো মনে হতে পারে, তবুও জাপানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং এই প্রকল্পের পরিকল্পনা মানব সভ্যতার ভবিষ্যতের শক্তি সমস্যার এক যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে।