PM Modi On AI: ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ রিয়েল-টাইমে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে অনুবাদ করা হয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI ব্যবহার করে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI ব্যবহার করে এবার প্রধানমন্ত্রীর ভাষণও রিয়েল-টাইমে অনুবাদ করা হলো সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে। ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতার সময় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। মোদী জানিয়েছেন, AI-এর জগতে সকলকে শামিল করার যে লক্ষ্য, এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে আমার ভাষণ AI ব্যবহার করে রিয়েল-টাইমে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে অনুবাদ করা হয়েছে। AI-এর ক্ষেত্রে সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার যে অঙ্গীকার, এটা তারই প্রতিফলন। আমরা সব সময় চেষ্টা করব যাতে প্রযুক্তি এবং সরকারি আলোচনা বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের কাছে সহজলভ্য হয়।”
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য প্রযুক্তি এবং সরকারি আলোচনা যাতে সবসময় সহজলভ্য থাকে, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাবে।
এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর মূল ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী AI এবং এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি ভারতের সমস্ত নাগরিকের কাছে এই প্রযুক্তিকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন।
মোদী বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক এআই সামিটে আমি আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাই। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম টেক-প্রতিভার কেন্দ্র। এটা গ্লোবাল সাউথের জন্য গর্বের বিষয় যে এআই সামিট ভারতে আয়োজন করা হচ্ছে। যখন প্রথমবার তার ছাড়া সিগন্যাল পাঠানো হয়েছিল, তখন কেউ ভাবেনি যে একদিন পুরো বিশ্ব রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত হবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানব ইতিহাসে তেমনই এক পরিবর্তন। আমরা আজ যা দেখছি বা যা ভবিষ্যদ্বাণী করছি, তা এর প্রভাবের কেবল শুরু মাত্র।”
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “ভারত AI-কে সকলের জন্য উপকারী হিসেবে দেখে, আর তাই আমরা ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ থিম বেছে নিয়েছি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে AI সকলের জন্য, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের জন্য গণতান্ত্রিক হয়। AI মেশিনকে বুদ্ধিমান তো বানাচ্ছেই, তার চেয়েও বেশি করে মানুষের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু একটাই পার্থক্য: এবার এর গতি অভূতপূর্ব এবং এর প্রভাবও অপ্রত্যাশিত। আগে প্রযুক্তির প্রভাব দেখতে কয়েক দশক লেগে যেত। আজ মেশিন লার্নিং থেকে লার্নিং মেশিনের যাত্রা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত, গভীর এবং ব্যাপক।”
প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন কীভাবে সার্বভৌমভাবে AI ব্যবহার করে একটি উন্নত দেশ গড়া যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা AI দিয়ে কী করতে পারি, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
“আমাদের একটি বড় লক্ষ্য রাখতে হবে এবং একই সাথে একটি বড় দায়িত্বও নিতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি, আমাদের ভাবতে হবে যে আমরা আগামী প্রজন্মের হাতে কী ধরনের AI তুলে দেব। তাই আজকের আসল প্রশ্ন এটা নয় যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভবিষ্যতে কী করতে পারে। প্রশ্ন হল, আমরা বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে কী করব? মানবজাতির সামনে আগেও এমন প্রশ্ন এসেছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল পারমাণবিক শক্তি। আমরা এর ধ্বংসলীলাও দেখেছি, আবার এর ইতিবাচক অবদানও দেখেছি,” বলেন মোদী।
কল্যাণের জন্যই AI
সকলের কল্যাণ নিশ্চিত করতে AI-কে মানবকেন্দ্রিক করে তোলার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “AI একটি রূপান্তরকারী শক্তি। যদি লক্ষ্যহীন হয়, তবে এটি ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে; আর যদি সঠিক দিশা পায়, তবে এটি সমাধান হয়ে ওঠে। কীভাবে AI-কে মেশিন-কেন্দ্রিক থেকে মানব-কেন্দ্রিক করা যায়, কীভাবে একে সংবেদনশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীল করা যায়, এই গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের এটাই মূল উদ্দেশ্য। এই সামিটের থিম স্পষ্টভাবে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। সকলের কল্যাণ, সকলের সুখ। এটাই আমাদের মাপকাঠি...”
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে সারা বিশ্বের সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম বিশ্বব্যাপী এআই সামিট হিসেবে, ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট AI-এর রূপান্তরকারী সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। এটি “সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়” (সকলের কল্যাণ, সকলের সুখ) এই জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং ‘মানবতার জন্য AI’ এই বিশ্বব্যাপী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সামিটটি AI-এর পরিচালন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক প্রভাবের উপর বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা জোরদার করার একটি চলমান আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার অংশ।


