২০২৬ সালে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়ায়। ভারতেও বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার পরিবর্তন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা NOAA-র তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬-এ নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়ায়। ভারতেও বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার পরিবর্তন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা NOAA-র তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬-এ নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই প্রথম ওই তাপমাত্রার সীমা অতিক্রম করার ঘটনা সামনে এসেছে। এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এই সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ, মেঘের চলাচল এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে। প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায়।
বর্তমান এল নিনোর শক্তি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। বছরের শেষের দিকে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছতে পারে বলেও পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা কতটা বাড়ল?
- WMO-র তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘নিনো ৩.৪’-তে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্রমশ বাড়ছে।
- - জুন ২০২৬: স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
- - আগস্ট ২০২৬: স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
- - অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৬: পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পার্থক্য প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে।
আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নতুন পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে যেতে পারে। এখানে উল্লেখিত সংখ্যাগুলি সমুদ্রের প্রকৃত তাপমাত্রা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় অতিরিক্ত উষ্ণতার পরিমাণ।
ভারতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
ভারতের জন্য এল নিনো নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার সম্ভাব্য পরিবর্তন। ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরসুমে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অক্টোবরের পূর্বাভাসেও আগামী কয়েক মাসে দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ উপদ্বীপীয় দক্ষিণ এশিয়ার বহু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব কৃষিকাজ, জলসম্পদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভারতের প্রতিটি অঞ্চলে একই ধরনের প্রভাব পড়বে, এমনটা নিশ্চিত নয়। এল নিনো ছাড়াও অন্যান্য জলবায়ুগত পরিস্থিতি ও স্থানীয় আবহাওয়ার উপরে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা নির্ভর করে।
২০২৭ সালেও কি থাকবে এল নিনোর প্রভাব?
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনো ২০২৭ সালের গোড়া পর্যন্ত শক্তিশালী থাকতে পারে। NOAA-র ৮ অক্টোবরের পূর্বাভাসেও ২০২৭ সালের জানুয়ারি–মার্চ পর্যন্ত শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী এল নিনো বজায় থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এল নিনোর প্রভাব ঠিক কতটা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং অন্যান্য জলবায়ুগত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা।
