বাঁকুড়া জেলার পুরনো পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজো পুজো শুরু হওয়ার পেছনে আছে এক ইতিহাস    মা দুর্গারও রয়েছে নানান বিশেষত্ব। প্রায় ১৪৬ বছরের পুরনো এই পুজো। 

বছর ঘুরে 'মা' যে আবার এল ফিরে। আকাশে বাতাসে এখন পুজোর গন্ধ। চারিদিকে সাজো সাজো রব 'মা' আসার খুশিতে। পুজোর আনন্দে মেতেছেন সবাই। ক্লাবের পুজোর পাশাপাশি বনেদী বাড়ির পুজো গুলিও জমে উঠেছে। কলকাতার পাশাপাশি জেলা জুড়েও রয়েছে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বনেদী বাড়ির পুজো। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বাঁকুড়ার মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজোটি বহু বছরের পুরনো পুজো। অনেকগুলি প্রজন্ম কাটিয়ে এই পুজো ১৪৬ বছরে পর্দাপণ করেছে। বর্তমানে এই পুজোটি হয় বাঁকুড়ার শানবান্দা এলাকাতে। বাংলা ১২৮০ সাল নাগাদ মধুসূদন মুখোপাধ্যায় বড় মেলার দালান অংশটি (এখন যেখানে পুজো হয়) তৈরি করেন। এখন যেখানে পুজো হয় ও তার সামনের অংশটি বড়ো সিঁড়ি গুলো পর্যন্ত। আগে সেখানে খিলান করা তিনটি দরজা ছিল। হ্যাজাক জ্বেলে পুজো হতো আর নীচের থাম দেওয়া দালান টি কয়েক বছর পরে মধুসূদন এর ভাগ্নে (বোন শ্যামার পুত্র) সীতানাথ বন্দোপাধ্যায় তৈরি করেন। দুর্গা মেলার পাশে রয়েছে শিব মন্দির। প্রতিমা থেকে শুরু করে, ভোগ সবেতেই রয়েছে বৈচিত্র্য। প্রতিমা এখানে সাবেকি। ডাকের সাজে সেজে ওঠেন মা। দুর্গা থেকে শুরু করে সরস্বতী, লক্ষী, কার্ত্তিক, গণেশ সকলেই সেজে ওঠেন বেনারসীতে। এছাড়া প্রতিমা সেজে ওঠেন সোনার অলংকারে। শোনা যায়, এখানের মা দুর্গা বেশ জাগ্রত। পুজোর ভোগেও রয়েছে বৈচিত্র্য। খিচুড়ি, ফল ভোগ তো থাকেই, তার সঙ্গে থাকে অন্ন ভোগ- এর মধ্যে সকালে থাকে ভাত, নানা রকমের ভাজা, পায়েস, ও মাছ। রাতে নিবেদন করা হয় লুচি ও নানা রকমের মিষ্টি। এই সমস্ত রীতি আজও অবর্তমান।

পুজোর চারদিন সকলে মিলে এখানে আনন্দে মেতে ওঠে। দেশ বিদেশ থেকে সকলে পুজোর চারদিন এখানে এসে আড্ডা জমান। সুতরাং জেলার বনেদী বাড়ির পুজোর স্বাদ নিতে হলে আপনাকে আসতে হবে বাঁকুড়ার মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজোতে।