১৯৯০ সালের কাশ্মীর। সেই সময় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর জঙ্গিদের অত্যাচার সীমা লঙ্ঘন করে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে যেসব কাশ্মীরি পণ্ডিতরা বেঁচে গিয়েছেন জঙ্গি হামলার হাত থেকে, তাঁরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন। সেই সময় প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা কাশ্মীর ছেড়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন লেখিকা সুনন্দা বশিষ্ট। মার্কিন কংগ্রেসে মানবাধিকার নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি যা বললেন, শিউরে উঠলেন সকলে। 

মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সুনন্দা বশিষ্ট বলেন,  'ভারতের কাশ্মীর উপত্যকায় সংখ্যালঘূ হিন্দু সম্প্রদায়ের  প্রতিনিধি আমরা। ১৯৯০ সালে  কাশ্মীর থেকে হিন্দুদের একবারে নির্মূল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়, কারণ ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। নতুন করে একটা স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পেরেছি।'  তিনি মন্তব্য করেছেন, বি কে গাঞ্জু নামে একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।  জঙ্গিরা তাঁর বাড়ি হামলা করছে, এই খবর পাওয়ার পরেই তাঁর বাড়ির চালের ড্রামে লুকিয়ে ছিলেন। 

সুনন্দা বশিষ্ট বলেন,  প্রথমে জঙ্গিরা গাঞ্জুকে খুঁজে না পেয়ে ফিরে যান। কিন্তু প্রতিবেশীরা জানতে পারে গাঞ্জু  কোথায়  লুকিয়ে ছিলেন। তাঁরা গাঞ্জুর খবর  জঙ্গিদের দিয়ে দেন। ফের জঙ্গিরা তার বাড়িতে হামলা করে।  চালের ড্রামের মধ্যেই তাকে গুলি করে হত্যা করে।  এরপর গাঞ্জুর স্ত্রীকে স্বামীর রক্ত খেতে বাধ্য করেছিলেন। 


ওয়াশিংটনে টম ল্যান্টোস মানবাধির কমিশনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বশিষ্ট বলেন, এতদিন কাশ্মীরে কোনও মানবাধিকার ছিল না। বরং ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পরেই কাশ্মীরে মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। 

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বশিষ্ট বলেন, আজ আমি আনন্দিত যে ভারতের অন্যান্য নাগরিকরা এতদিন যে অধিকার পেতেন, কাশ্মীরের নাগরিকরা একই অধিকার পাবে।  অন্য অনেক অধিকারের মধ্যে যদি নারীর সম্পত্তির মালিকানা ও এলজিবিটিদের অধিকার প্রদান করা হলে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া আক্ষরিক অর্থে সফল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছন, কাশ্মীরের বাকি জেলাতে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে।  সবার শেষে তিনি বলেন, 'আমি কাশ্মীরের  মেয়ে বলে গর্ব অনুভব করি। জঙ্গিরা একদিন আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। কাশ্মীর থেকে উৎখাত করার চেষ্টা করে। আশা করছি, একদিন কাশ্মীরে মানবাধিকার ফিরবে।'