শনিবার মার্কিন স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় অভিযান শুরু করে আমেরিকার এলিট বাহিনী এই অভিযান আটটা হেলিকপ্টার নিয়ে উত্তর ইরাক থেকে শুরু হয় আমেরিকার এলিট বাহিনীর ছয় হাজার সদস্য অংশ গ্রহণ করেছিলেন শনিবার মার্কিন সময় সন্ধে সাতটার সময় অভিযান শেষ হয় 

ঠিক যেন ২০১১ সালের ২ মে এর পুনরাবৃত্তি। রাতের অন্ধকারে ঠিক যেভাবে লাদেনের বাসস্থানে হামলা করে হত্যা করেছিল আমেরিকার এলিট সেনাবাহিনী। ঠিক সেই ভাবেই শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে হত্যা করা হল আইএসআইএসের প্রধান আবু বকর আল বাগদাদিকে। আর সমস্ত ঘটনা কন্ট্রোল রুম থেকে প্রত্যক্ষ করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred


অনেক দিন থেকে বাগদাদির খোঁজ চলছিল। প্রতি বছর কমপক্ষে একবার করে বাগদাদি নিহত হওয়ার গুজব ওঠে। আর প্রায় প্রতিবার নিজের ভিডিও প্রকাশ করে বাগদাদি নিজের জীবিত থাকার বা সক্রিয় থাকার প্রমাণ দিয়ে যায়। ইরাকে বাগদাদি খিলফৎ শাসনের অবসানের পর সিরিয়া পালিয়ে চলে আসে। কিন্তু সিরিয়ার ঠিক কোথায় বাগদাদি লুকিয়ে রয়েছে, আমেরিকা অনেক দিন ধরে তার অবস্থানের খোঁজ চালিয়ে যায়। গোপনে বাগদাদির খবর পায় মার্কিন গোয়ন্দা সংস্থা। এরপর পরিকল্পনা করা হয় বাগদাদিকে হত্যা করার। বাগদাদিকে হত্যা করতে আমেরিরার এলিট সেনাবাহিনীর ছয় হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করেছিলেন। শনিবার রাত ইরাকের উত্তর থেকে আটটা হেলিকপ্টার উড়ে যায় সিরিয়ার এক অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে। পরিকল্পনা ছিল সিরিয়ার রবিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই অভিযান শেষ করতে হবে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার আমেরিকার স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটা থেকে অভিযান শুরু করা হয়। 

এই অভিযানের প্রথম ও প্রধান বাধা ছিল আকাশ সীমা ব্যবহার। এক্ষেত্রে সিরিয়া,তুরস্ক, রাশিয়ার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কোনওভাবেই এই গোপন অভিযানের কথা প্রকাশ করা যাবে না। ট্রাম্প নিজের বিবৃতি এই তিনটি দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে অভিযানে বিশেষ প্রশ্ন ছাড়া আকাশ সীমা ব্যবহারের জন্য। ট্রাম্প এই অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে জানায়, বাগদাদি যেখানে অবস্থান করছিল, সেখানে পৌঁছে গেলেও মার্কিন এলিট বাহিনীর সেনারা দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন না। বরং অত্যন্ত গোপনে ও নিঃশব্দে কমপাউন্ডের পাশে একটা গর্ত খোঁড়েন। সেখান থেকে বাগদাদির কাছে প্রবেশের চেষ্টা করেন। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় বাগদাদি কয়েকজন বিশ্বস্ত সঙ্গী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাস করতেন। এই সময় বাগদাদি বুঝতে পেরে যান শক্তিশালী শত্রুপক্ষ তার ডেরায় আসছে। বাগদাদি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এই বিস্ফোরণে বাগদাদির সঙ্গে তাঁর তিন সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকার স্থানীয় সময় সন্ধে সাতটা নাগাদ বাগদাদির মৃত্যু হয়েছে। বিবৃতি দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাগদাদির হিরোর মতো মৃত্যু হয়নি। একজন কাপুরুষের মতো তার মত্যু হয়েছে।