প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরান। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাঁটি এবং মার্কিন দূতাবাস চত্বরে রকেট হানা চালিয়ে নিজেদের সেনা কম্যান্ডার-এর হত্যার জবাব দিল ইরান। ফলে আমেরিকা- ইরানের মধ্যে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও এক প্রস্ত চড়ল। 

শুক্রবার বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হানায় নিহত হন ইরানের শীর্ষ সেনা কম্যান্ডার জেনারেল কাশেম সোলেমানির। তিনি ইরানের রেভেলিউশনারি গার্ড- এর প্রধান ছিলেন। এই হামলার পরেই আমেরিকাকে প্রত্যাঘাতের জন্য তৈরি থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। 

আরও পড়ুন- উঁকি দিচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, আমেরিকার বিরুদ্ধে উঠল কঠোর প্রতিশোধের ডাক

সেই হুঁশিয়ারি যে ফাঁকা বুলি ছিল না তা চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই প্রমাণ করে দিল ইরান। শনিবার সন্ধ্যায় বাগদাদে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া গ্রিন জোনে দু'টি মর্টার হামলা চালায় ইরান। এই গ্রিন জোন চত্বরেই রয়েছে মার্কিন দূতাবাস ভবন। এর পাশাপাশি মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও দু'টি রকেট  হানা চালায় ইরান। যদিও এই হামলায় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি বলেই শেষ পাওয়া খবরে দাবি করেছে সংবাদসংস্থা। এই হামলার পরেই মার্কিন ঘাঁটি জুড়ে সাইরেন বাজতে শুরু করে। 

বাগদাদের উত্তর দিকে বালাদে মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটি রয়েছে। সেখানেই শনিবার বিকেলে এক জোড়া ক্যাট্যুসা রকেট হামলা চালানো হয়। সঙ্গে সঙ্গেই হামলা প্রতিরোধে তৎপর হয় মার্কিন বাহিনী। নজরদারি ড্রোন উড়িয়ে রকেটগুলির উৎসস্থল চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো বয়। 

গত একমাস ধরে ইরাকে অবস্থিত পাঁচ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনার উপর পরের পর রকেট হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই সমস্ত হামলার জন্য ইরান এবং ইরাকে তাদের সমর্থকদের দায়ী করেছে আমেরিকা। 
এমনই এক হামলায় গত মাসে উত্তর ইরাকে কর্মরত এক মার্কিন ঠিকাদারের মৃত্যু হয়। এর পরেই প্রত্যাঘ্যাত চালিয়ে ইরানের সহযোগী কট্টরপন্থী পঁচিশজন যোদ্ধাকে হত্যা করে মার্কিন সেনা। 

শুক্রবার বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে ইরানের কম্যান্ডার সোলেমানির কনভয় বের হওয়া মাত্র তাতে বড়সড় ড্রোন হামলা চালায় আমেরিকা। এর পর থেকেই পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুতি হচ্ছিল ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা এবং আধিকারিকরা। দুই দেশকেই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আর্জি জানিয়েছে ভারত সহ বিভিন্ন দেশ। যদিও শনিবার ইরানের জবাবি হামলার পর উত্তেজনার পারদ আরও এক দফা চড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।