গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। প্রথমে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
ইরান নিয়ে এবার বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের নেতৃত্বে ইরানের নেতারা নাকি তাঁকে ফোন করে সমঝোতা চেয়েছেন। রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'গতকাল ইরানের নেতারা ফোন করেছিলেন। একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁরা আলোচনা করতে চান।' তবে ট্রাম্প নেতা আরও বলেন, 'বৈঠকের আগেই আমাদের হয়তো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সামরিক বাহিনী এটি দেখছে এবং আমরা কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছি। আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।'
ইরান কোনও রেড লাইন অতিক্রম করেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে জানাতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'আমি কি সত্যিই—আপনি কি আমাকে বলতে বলছেন, তারা কী করবে? আমরা কোথায় আক্রমণ করব? কখন এবং কোন দিক থেকে আমরা আক্রমণ করব?' ট্রাম্প জানান যে তিনি ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ঘণ্টায় ঘণ্টায় তথ্য পাচ্ছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। প্রথমে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। খামেনেইয়ের অপসারণ চাইছেন ইরানের মানুষ। তেহরান ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে কঠোর হয়েছে ইরান প্রশাসন। নির্বিচারে প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫৩৮।
এনিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'কিছু মৃত্যু ভিড়ের বিশৃঙ্খলার কারণে হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী পদপিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন। মানে, আপনারা জানেন, সেখানে এত বেশি লোক ছিল। কয়েকজনকে গুলি করা হয়েছে।' ইরান বা তার মিত্রদের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, 'যদি তারা তা করে, আমরা তাদের এমনভাবে আঘাত করব যা তারা আগে কখনও দেখেনি। তারা এটা বিশ্বাসও করতে পারবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্প বোঝা উচিত ইরানের। সোলেইমানি, আল-বাগদাদি এবং ইরানের পরমাণু অস্ত্র নির্মূল করা হয়েছে।'


