ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ড স্কুলের মর্মান্তিক ঘটনার পর একটা বছর কাটতে না কাটতেই ফের বন্দুকবাজের কবলে পড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো প্রদেশের একটি স্কুল। ডগলাস কাউন্টির এসটিইএম স্কুলে মঙ্গলবার হামলা চালালো ওই স্কুলেরই দুই প্রাক্তন ছাত্র। তাদের এলোাথারি গুলি বর্ষণে প্রাণ গেল ১৮ বছরের এক ছাত্রের। আরও অনেক ছাত্রই গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের কাছের বিভিন্ন হাসাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্তত ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্কুলের অন্যান্য কর্মচারীদের কারোর কোনও ক্ষতি হয়নি।

ডগলাস কাউন্টির শেরিফ জানিয়েছেন, ওই দুই প্রাক্তন ছাত্র তথা বন্দুকবাজ হ্যান্ডগান নিয়ে স্কুলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওই স্কুলটিতে নার্সারি থেকে হাইস্কুল পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বন্দুকবাজেরা হাইস্কুলের ভবনের দুটি ভিন্ন জায়গায় আচমকা গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। শেরিফ আরও জানিয়েছেন বিশেষ কেউ তাদের নিশানা ছিল বলে জানা যায়নি।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল কর্তৃপক্ষ খবর দেয় কুইক রেসপন্স টিমকে। তাদের অফিসারদের তৎপড়তাতেই অনেকের প্রাণ বেঁচেছে বলে জানা গিয়েছে। ওই স্কুলের মোট ছাত্রসংখ্যা ১৮০০। কাজেই কুইক রেসপন্স টিম না থাকলে আরও বড় ক্ষতি হতে পারত। তারাই গিয়ে ওই দুই বন্দুকবাজকে আয়ত্বে আনে। নিরাপত্তার খাতিরে বেলা ৩টে পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখেন তাঁরা। ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ির লোককে খবর দিয়ে স্কুল থেকে সামান্য দূরে এক নিরাপদ জায়গায় আসতে বলা হয়। সেখানেই ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আমেরিকার ইতিহাসে স্কুলে বন্দুকবাজের হামলার প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল এই কলোরাডো প্রদেশেই। বস্তুত, ১৯৯৯ সালের ওই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল এদিনের ঘটনাস্থল, এসটিইএম স্কুল থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে কলম্বাইন স্কুলে। ওই ঘটনায় ১২ জন ছাত্র ও ১ শিকের মৃত্যু ঘটেছিল।

সেই সময়েই বন্দুক রাখার অধিকার, হিংসার ঘটনা বাড়াচ্ছে কি না তাই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। যা এখনও মেটেনি। বরং বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বন্দুক রাখার অধিকার রক্ষার পক্ষেই মত পোষণ করেন। অথচ ১৯৯৯ সালের ওই ঘটনার পর থেকে মার্কিন মুলুকে এলোপাথারি গুলি চালিয়ে গণহত্যার ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে।
ইদানিংকালে এই ধরণের ঘটনা প্রায় নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭ সালে বন্দুকবাজের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৪০০০০ মার্কিনি। কলম্বাইন স্কুলের ঘটনার পর থেকে ২৩৩টি স্কুলে বন্দুকবাজের গুলিতে আহত বা নিহত হয়েছে ২,২৬,০০০ জন ছাত্র-ছাত্রী। এর সঙ্গে আরও একটি পরিসংখ্যান বেশ দুশ্চিন্তার। ৩২৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীদের হাতে রয়েছে ৩৯৩ মিলিয়ন বন্দুক!