আশার আলো দেখছেন মার্কিনবাসী। পরপর ২দিন দেশে মৃত্যুহার হাজারের নিচে থাকল। গত রবিবার আমেরিকার করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছিল ৮২০ জনের। সোমবার সেই সংখ্যা আরও কমল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ৭৫৯জন। তবে এখনও বিশ্বে আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় এক নম্বরেই রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি। যা বিশ্বের মোট করোনা আক্রান্তের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। আমেরিকায় মৃতের সংখ্যা ৯১ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এদিকে চলতি বছরের শেষের মধ্যেই আমেরিকা করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলবে বলে আগেই দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সেই দাবিকে বাস্তবায়িত করতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মার্কিন বায়োটেক সংস্থা মডার্না। সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে অনেকটাই সফল হয়েছে। মোট ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল গত মার্চ মাসে। তবে এঁরা কেউই করোনা আক্রান্ত ছিলেন না। এদের মধ্যে ৮ জনের শরীরে করোনার মোকাবিলা করার মতো প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

বারণ করছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা, বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন খেয়েই চলেছেন ট্রাম্প

মিলে গিয়েছে কার্যকর ওষুধ, করোনায় দিশেহারা পৃথিবীকে আশ্বস্ত করছে বাংলাদেশ

প্রথম আক্রান্তের খোঁজ মেলার পর ১০৯ দিন পার, দেশে সংক্রমণের সংখ্যা এবার ছাড়াল লাখের গণ্ডি

মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিনটির মানুষের শরীরে ট্রায়াল চালায় আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিস। ওই ৮ জন স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। এক প্রেস বিবৃতিতে মডার্না জানিয়েছে, ভ্যাকসিন আংশিক সফল, তা বলাই যায়। 

ভ্যাকসিনটি সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ ও যথেষ্ট সহনশীল বলেই দাবি সংস্থার৷ প্রাকৃতিক ভাবে যে সংক্রমণ হয় তার বিরুদ্ধে লড়তে তৈরি এই টিকা৷ অন্তত প্রথম ধাপের পরীক্ষা সেই প্রমাণ করেছে বলে জানিয়েছেন মডার্নার চিফ মেডিক্যাল অফিসার ট্যাল জাকস৷ ফলে আশা করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় এই প্রতিষেধক কিছুটা হলেও কাজে দিতে পারে। মানব শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে করোনা সংক্রমণ ঠেকানো যেতে পারে। এই ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য মার্কিন সরকার খরচ করেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা৷

তবে এটা একেবারে প্রথমিক স্তরের পরীক্ষা বলেও ঘোষণা করেছে মডার্না৷ প্রথম পর্যায়ে ৪৫ জনের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়৷ সেই পরীক্ষার গোটা রিপোর্টটি যদিও এখনও সামনে আসেনি৷ মোট ৩ দফায় চলে পরীক্ষা৷ ১৫জনের দলে ভাগ করা হয় সকলকে৷ এরপর দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় আরও বেশি মানষের শরীর ব্যবহার করা হবে৷ এই ভ্যাকসিন। তবে পরীক্ষার তৃতীয় দফাটিই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ৷ এই পরীক্ষায় সফল হতে পারেলেই মিলবে সম্পূর্ণ সাফল্য৷ 

আপাতত গবেষকরা জানার চেষ্টা করছেন, কী ধরণের ও কত পরিমামে অ্যান্টিবডি এই ভাইরাসের মোকাবিলায় শরীরে থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এই প্রতিষেধক কতদিন শরীরে থাকবে ও সুরক্ষা যোগাবে। দুটি ডোজে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, আরও বেশি ডোজে তার থেকে বেশি পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করতে চলেছে মডার্না। সংস্থাটি জানিয়েছে, শেষ ধাপের পরীক্ষা জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। মর্ডানা তাদের এই ভ্যাকসিনের নাম রেখেছে  mRNA-1273।