গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৩ লক্ষের বেশি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষরেই একটাই প্রাশ্ন, কবে আবিষ্কার হবে করোনার ওষুধ, মিলবে মহামারীর হাত থেকে রেহাই। বিশ্বের নানা দেশের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে দিনরাত এক করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকে আশার আলো দেখাল প্রতিবেশী বাংলাদেশের একদল চিকিৎসক। তাঁরা এই মারণ ভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য ওষুধ আবিষ্কার করে ফেলেছেন বলে দাবি করছেন। চিকিৎসক দলটি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট দুটি ওষুধ প্রয়োগে বাংলাদেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে দারুন সাড়া পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের  মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডা. মহম্মদ তারেক আলম দাবি করেছেন, তাঁরা নির্দিষ্ট দুটি ওষুধের থেকে অ্যান্টিডট বানিয়েছেন, যা প্রয়োগ করে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ জন করোনা আক্রান্তকে সুস্থ করে তুলেছেন। তারেক আলম  জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে একটি অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিনের সঙ্গে সিঙ্গল ডোজ ইবরমেক্টিন নামের অ্যান্টিপ্রোটোজল ব্যবহার করেছেন তাঁরা, যা করোনা রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে দারুন ফল দিয়েছে। 

করোনা ফের ঘটিয়ে দিল মিরাকল, কাঠমান্ডুতে বসেই এবার দেখা গেল এভারেস্টের চূড়া

লকডাউনের মাঝেই অবশেষে প্রকাশিত সিবিএসই-র দশম ও দ্বাদশের সূচি, ১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে পরীক্ষা

কোথা থেকে কীভাবে ছড়ালো করোনা, চিনের উপর চাপ বাড়িয়ে ৬১টি দেশের সঙ্গে এবার তদন্ত চাইল ভারতও

চিকিৎসক তারেক আরও জানান, 'যাঁদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, আমার চিকিৎসকদল সেই করোনা আক্রান্তদের ওপর এই দুই ওষুধের প্রয়োগ করে। তারপর দেখা গিয়েছে, চারদিনের মধ্যে তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। পরে একাধিকবার টেস্ট করে দেখা গিয়েছে, করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে। ফলে আমাদের মনে হচ্ছে, এই ওষুধগুলির কোনও সাইড এফেক্টও নেই, এবং দ্রুত সুফল দিয়ে সমস্যা মেটাতে পারে এটি। আমরা এটির কর্মক্ষমতা নিয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।’‌ 

ডা. তারেক আলম বলেন, এটি আমাদের কাছে রীতিমতো বিস্ময়কর লেগেছে। আরও আগে যদি আমরা ওষুধ নিয়ে কাজ করতাম, তবে এত দিনে হয়তো অনেককে হারাতে হতো না। তিনি বলেন, "এই ওষুধ দুটি এর আগেও সার্স মহামারির সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। আমি নিশ্চিত করেই বলছি, এই ওষুধ দুটির সম্মিলিত ব্যবহারে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্য দুটি ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও রেমডিসিভিরের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে এই ওষুধ নিয়ে ভারতে গবেষণা শুরু হয়েছে।"

বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ সরকারও। যাতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁদের চিকিৎসকদের ওষুধের কম্বিনেশনকে স্বীকৃতি দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা শুরু করেছে হাসিনা সরকার। এর আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল মানুষের শরীরে শুরু করেছেন। সেই ভ্যাকসিনের সাফল্যের ব্যাপারে গবেষক দলটি বেশ আশাবাদী। ইতালিও করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করছে। পিছিয়ে নেই আমেরিকাও। চলতি বছরের শেষেও সেদেশে ভ্যাকসিন মিলবে বলে দাবি করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মাঝে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের আবিষ্কৃত ওষুধ যদি সফল হয়, তাহলে বিশ্বে করোনা মহামারী প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সেটি যে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার হয়ে উঠবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে বিশ্বের সঙ্গে তাল রেখে ভারতের প্রতিবেশী দেশটিতে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের  সংখ্যা। বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মারণ ভাইরাস প্রাণ কেড়েছে ৩৪৯ জনের।