করোনাভাইরাসের জেরে আমেরিকায় এক থেকে দুই লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজের ডিরেক্টর অ্যান্থনি ফৌচ গত মার্চ মাসে এমনটাই আশঙ্কা করেছিলেন। তার সেই ভবিষ্যতবাণী সত্যি হয়ে গেল মার্কিন মুলুকে। কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা এবার এক লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দিসেব অনুযায়ী আমেরিকায় এখন মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ২ হাজারের বেশি। 

মৃতের সংখ্যার মত আক্রান্তের সংখ্যাতেও গোটা বিশ্বে সবার উপরে রয়েছে আমেরিকা। দেশটিতে মোট সংক্রমণের সংখ্যা ১৭ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। গোটা দুনিয়ায় যত মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তার ৩০ শতাংশই মার্কিন মুলুকের বাসিন্দা।

বাংলাদেশে করোনা হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের

রেকর্ড গড়ে টানা ৭ দিন আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়াল, মৃতের সংখ্যা পেরোল সাড়ে ৪ হাজারের গণ্ডি

মহামারীর চিকিৎসা করতে গিয়ে মিলছে না সময়, হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন চিকিৎসক ও নার্স

গত ২১ জানুয়ারি প্রথম ওয়াশিংটনে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তবে প্রথম দিকে গুণিতকে হারে বাড়েনি আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু মার্চের শুরু থেকেই দেশটিতে লাগামছাড়া ভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি কার্যত আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থা বড়াই করার মতোই। কিন্তু কোভিড ১৯ সেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকেই একেবারে অসহায় করে দিল। দেশটিতে সংক্রমণ ছড়ানোর মাত্র চার মাসের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। করোনা সংক্রমণে বর্তমানে বিশ্বের কোনও দেশই আমেরিকার ধারেকাছে নেই। 

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে দেশটিতে এখনও প্রায় ১৮ হাজার করোনা আক্রান্ত মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেশে উচ্চমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্বেও করোনার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না চিকিৎসক, নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। মার্কিন মুলুকে বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন মারণ করোনায়। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে  কমপক্ষে ২৯১ জনের। এদিকে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল করার জন্য মার্কিন প্রেদশগুলির উপরে পরোক্ষে চাপ বাড়িয়ে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

 

 এক মার্কিন  বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ মারা গিয়েছেন, সেটি গত ৪৪ বছর যাবৎ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক এবং আফগানিস্তান সংঘাতের সময় আমেরিকার নিহত সৈনিকদের সংখ্যার সমান। এর মাঝেই  আমেরিকার ২০টি অঙ্গরাজ্যে নতুন করে সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিল এবং আরকানসাস। তবে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে নিউ ইয়র্কে। সেখানে এখন মৃত্যুর হার কমে এসেছে। নিউইয়র্কে এখনো পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ হাজার।

এদিকে দেশে করোনার কারণে চলতে থাকা মৃত্যু মিছিল দেখেও ব্যর্থতার দায় নিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উল্টে তাঁর রাগ গিয়ে পড়েছে দেশের সোশ্যাল মিডিয়ার উপর। চলতি বছরই মার্কিন মুলুকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কিন্তু দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণে সেই নির্বাচণের প্রচারে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। এর মধ্যেও  তাঁর অ্যাজেন্ডাকে সমর্থন করে না এমন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।