কীভাবে ধীরে ধীরে করোনভাইরাস মহামারি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল, তার ঘটনাপ্রবাহ যদি পুরোপুরি না দিতে পারে, তাহলে চিনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, নয়জন প্রভাবশালী সেনেটর মার্কিন কংগ্রেসে এমনই এক আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিলেন। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে এই 'কোভিড-১৯ অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যাক্ট' বা 'কোভিড -১৯ জবাবদিহিতা আইন'-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এই খসড়াটি তৈরি করেছেন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

এই আইন অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেস-এর কাছে চিন সম্পর্কে একটি শংসাপত্র পেশ করতে হবে। তাতে তিনি জানাবেন, কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বা তাদের সহযোগী কোনও দেশ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো রাষ্ট্রসংঘের কোনও সহযোগী সংস্থার নেতৃত্বে হওয়া তদন্তে চিন সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে কিনা। সম্পূর্ণ জবাবদিহি করছে কিনা। সেই সঙ্গে চিনের যে সমস্ত ওয়েট মার্কেট রয়েছে, যেখান থেকে বন্য পশুদের দেব মারফৎ মানুষের দেহে রোগ ছড়িয়ে পড়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি করে, এমন ওয়েট মার্কেটগুলি বন্ধ করা হয়েছে কি না।

যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসে জানান, চিন এই কাজগুলি করেনি, সেই ক্ষেত্রে তাঁকে চিনের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞার চাপানোর অনুমতি দেওয়া হবে। যার মধ্যে রয়েছে, চিনা সম্পদ ব্যবহার বন্ধ করা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা প্রত্যাহার, মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি চিনা ব্যবসাগুলিকে ঋণ প্রদান সীমাবদ্ধকরণ এবং মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জে চিনা প্রতিষ্ঠানগুলিকে তালিকাভুক্ত হতে না দেওয়ার মতো

সেনেটর গ্রাহাম, অর্থাৎ যিনি এই খসড়া আইনটি তৈরি করেছেন, তিনি জানিয়েছেন, তিনি একেবারে নিশ্চিত যে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতারণার জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, 'চিন আন্তর্জাতিক মহলকে তদন্তের জন্য উহানের গবেষণাগারে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। কীভাবে এই মহামারির সূচনা, তা তারা তদন্তকারীদের অধ্যয়ন করার দিচ্ছে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। আমি নিশ্চিত চিন এই গুরুতর তদন্তে কখনও সহযোগিতা করবে না। চিন যতদিন তদন্তে সহযোগিতা করবে না, ততদিন অবধি এই কড়া আইনের বলে চিনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।'

নাক-গলা-ফুসফুস হয়ে কীভাবে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস, জানুন ছবিতে ছবিতে

করোনায় নগ্ন 'স্যুট-বুটের সরকার', লড়াইয়ের অজুহাতে কি শ্রমিক শোষণের মতলব

'মাংস খেলেই ভয় সংক্রমণের', বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি

তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই অনেকেই বলছেন, ভাইরাসটি যে গবেষণাগার থেকে বের হয়নি, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। সেইসঙ্গে গত কয়েকদিনে এই স্বাস্থ্য সংকটের মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের গাফিলতি ও অপটুতাও ফাঁস হয়ে গিয়েছে। পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জামের অভাবের আসল চিত্রতা তুলে ধরে বরখাস্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব। এই অবস্থায় চিনের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। তাই, ঠান্ডা যুদ্ধের সমাপ্তির পর আরও একবার দেখানো হচ্ছে কমিউনিস্ট জুজু।