ভারতের করোনা পরীক্ষার কম সংখ্যা নিয়ে দিন কয়েক আগেই মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেছিলেন রাহুল গান্ধী এবং তাঁর দল কংগ্রেস। তবে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে মোদী সরকারের পাশেই দাঁড়ালো হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিসংখ্যান দিয়ে জানানো হল করোনা পরীক্ষার  সংখ্যায় ট্রাম্পের আমেরিকা রয়েছে এক নম্বরে। আর দ্বিতীয় হয়েছে, তাঁর মিত্র নরেন্দ্র মোদীর ভারত। বস্তুত, এদিনের বিবৃতিতে এক ঢিলে, মার্কিন ও ভারতীয় রাজনীতির দুই পাখি মারলেন ট্রাম্প।  

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব কিলেইগ ম্যাকেনানি বলেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। নিঃসন্দেহে বিশ্বের যে কোনও দেশের থেকে বেশি কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত ৪ কোটি ২০ লক্ষ কোভিড-১৯ পরীক্ষা হয়েছে মার্কিন মুলুকে। এরপরই তিননি জানান, এই বিষয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশটির নাম ভারত। হোয়াইট হাউসের হিসাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি করোনা পরীক্ষা হয়েছে ভারতে।

দিন কয়েক আগেই টুইট করে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দেশদের তালিকায় ভারত তিন নম্বরে উঠে এলেও করোনা পরীক্ষায় ভারত রয়ে গিয়েছে পাঁচ নম্বরেই। ক্ষতিগ্রস্ত দেশদের তালিকায় এবং সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা করা দেশগুলির তালিকায় - দুই জায়গাতেই এক নম্বরে ছিল আমেরিকার নাম। এদিনের হোয়াইট হাউসের বিবৃতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের করোনা মোকাবিলার ব্য়বস্থাপনার স্বীকৃতি। বন্ধুর হাত শক্ত করলেন ট্রাম্প।

এরর সঙ্গে সঙ্গে একই বিবৃতিতে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন-কেও নিশানা করল ট্রাম্প প্রশাসন। কিলেইগ ম্যাকেনানি-র মতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষা পূর্ববর্তী প্রশাসনের তুলনায় একেবারে বিপরীত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ওবামা আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা আগামী নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেনের প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ রোন ক্লেইন-এর এইচ১এন১ ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা নিয়ে বিবৃতি।

রোন ক্লেইন বলেছিলেন, এইচ১এন১ ভাইরাস সংক্রমণ মার্কিন ইতিহাসের একটি বৃহত্তর গণ দুর্ঘটনা হয়নি সেটা নেহাতই সৌভাগ্য। কারণ ওবামা প্রশাসন জানতই না কী করা উচিত। তার বিপরীতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা পরীক্ষায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চিকিত্সার জন্য ভেন্টিলেটরের বিতরণে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দেশে ১৩টি সম্ভাব্য টিকা তৈরির কাজ চলছে, যার একটি ক্লিনিকাল পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।