তবে তার এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় যখন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসে গণবিবাহ অনুষ্ঠানে বাধা দেন। তারা অভিযোগ করেন, আসমা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
উত্তরপ্রদেশের হাসানপুরে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত গণবিবাহ অনুষ্ঠানে ৩০০ জনের বেশি বর-কনে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদল লোক এসে অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটান। তাদের অভিযোগ, আসমা নামের এক মহিলা সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার বিয়ে করছেন, অথচ তিনি বিবাহিত। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র সরকারি সুবিধা পেতে এক মহিলা বোকা বানিয়ে ওই আসরে আবার বিয়ে করছেন।
আসমা, যার বিয়ে হয়েছে তিন বছর আগে নূর মহম্মদের সাথে, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। ছয় মাস আগে তিনি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে যান এবং বিবাহবিচ্ছেদ মামলাও চলছিল। কিন্তু আসল ঘটনা অন্য। আসমা জানতে পারেন, সরকার গণবিবাহ প্রকল্পে কনেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং নবদম্পতিকে বিনামূল্যে উপহার দিচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি তার কাকার ছেলে জাবের আহমেদকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তার পরিকল্পনা ছিল, বিয়ের পর পাওয়া সরকারি টাকা দিয়ে একটি মহিষ কিনবেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী গণবিবাহ প্রকল্পে ৩৫ হাজার টাকা করে দেন কনেকে। সঙ্গে নবদম্পতিকে বেশ কিছু উপহারও দেওয়া হয় বিনামূল্যে। অভিযোগ, এখানেই লোভের বশে ফন্দি আঁটেন আসমা।
তবে তার এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় যখন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসে গণবিবাহ অনুষ্ঠানে বাধা দেন। তারা অভিযোগ করেন, আসমা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনায় আসমা এবং তার কাকার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই ঘটনাটি সত্যিই আশ্চর্যজনক এবং একই সাথে হতাশাজনক। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য এই ধরনের কাজ নৈতিকতার পরিপন্থী।
আসমার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের মন্তব্য, বিবাহ বিচ্ছেদ ছাড়া কীভাবে এক মহিলা সরকারী টাকার লোভে গণবিবাহের আসরে আসতে পারে। সময় মতো আসতেই মুখোশ খোলা গেল ওই 'লোভী' মহিলার। এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই গোটা এলাকা জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
