উত্তম দত্ত:  সকালে প্রাতরাশ ২৫ টি ডিমসেদ্ধ। তার মধ্যে ১০টি কুসুম ছাড়া আর বাকি ১৫টি গোটা। সঙ্গে ৮০০ গ্রাম সেদ্ধ চিকেন আর ২০০ গ্রাম ওটস। দুপুরে লাঞ্চ হয় ২ কাপ  ভাত সহ ২০০ গ্রাম চিকেন সঙ্গে স্যালাড আর অবশ্যই দুটি সেদ্ধ আপেল। রাতে দেড় লিটার দুধ আর কলা, কাজু কিসমিস।  বছর ত্রিশ বয়স মুকেশ প্রসাদের। বাড়ি হুগলির রিষড়া নয়া বস্তি এলাকায়। প্রয়াত মনোহর আইচের ভাবশিষ্য এই মুকেশ। আর এই মুকেশ কেই নিজস্ব দেহরক্ষী নিয়োগ করেছেন বিজেপি দলের শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামল বসু।

আকারে ছোটখাটো ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এই মুকেশ কে পৌঢ় শ্যামল বাবু অনেক দিন আগেই চিনতেন।  তাঁর ব্যক্তিগত ভাবে কোনো নিরাপত্তারক্ষী নেই। দল দেয়নি। তবে আপাত শীর্ণকায় শ্যামল বাবু এই নির্বাচনে একজন দেহরক্ষীর প্রয়োজন অনুভব করে ছিলেন। তাই নিজেই গাঁটের কড়ি খরচ করে মাস মাইনে দিয়ে এই মুকেশ কে রেখেছেন। আর মুকেশ ও খুব খুশি। দাদা কে সে রামের মতো শ্রদ্ধা করে। নিজেকে সে দাবি করে অঙ্গরক্ষক হিসেবে। জানায়, "দাদা যদি আমায় লাইসেন্স করিয়ে দেয় তাহলে আমি গান নিয়ে নেব। আমার এই পেশা বেশ পছন্দ। "

"

শ্যামল বাবু সব শুনে মুচকি হেসেছেন।" আমার সঙ্গে বেশ কয়েক বছর আগে আলাপ হয়েছিল। আমাদের পার্টির ভীষণ ভক্ত। ওর চেহারা আর চাল চলন দেখে ভালো লেগে ছিল। তাই ওকে আমার কাছে রেখে দিয়েছি। একটি আইডেন্টিটি কার্ড ও তাকে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার কালো সাফারী ও দেওয়া হবে" জানান শ্যামল বসু।   

মুকেশ কে দেখলেই মনে পড়ে যায় ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে পড়া কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিকের রামসুক তেওয়ারী কবিতা খানি। সেই লাইনটা... বুক ছিল কি দরাজ কি গভীর পেটটি, ভুট্টার ছাতু খেত সের দুই লেটটি। আধুনিক কালের ' রামসুক' অবশ্য ছাতু লিটটি খায় না। তবে যা খায় তা তাকিয়ে দেখার মতো। সব ঠিকই ছিল সমস্যা অন্য জায়গায়। নির্বাচন শুরু হয়ে গিয়েছে। হুগলি জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে মোট ১৮ টি বিধানসভা এলাকায় ভোট হচ্ছে আগামী 6 এবং 10 তারিখ। চরম ব্যস্ততা এখন শ্যামল বাবুর । বিজেপি সভাপতি বলে কথা । চাপদানী থেকে জাঙ্গিপাড়া । মধ্যে পড়ছে শ্রীরামপুর, উত্তরপাড়া, চন্ডিতলা। এই পাঁচটি বিধানসভা তাঁকে চরকির মতো পাক খেতে হচ্ছে। আজ এই নেতা কাল ওই নেতা। সকাল থেকে রাত অবধি ঘুরতে হচ্ছে। সত্তরর্দ্ধ শ্যামল বাবু খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারটিতে উদাসীন। দীর্ঘদিনের এই আর এস এস এর সক্রিয় কর্মী যখন যা পান তাই খেয়ে নেন অর্ধেকদিন মুড়ি তেলেভাজা দিয়েই দিন কেটে যায়।

আরও পড়ুন - মুর্শিদাবাদে বোমাবাজিতে মৃত্যু মহিলাসহ দু'জনের, তৃণমূলকেই দুষলেন কংগ্রেস বিধায়িকা

আরও পড়ুন - বাদ 'জয় শ্রীরাম', ভরসা নিজের কাজ - শুভেন্দুর থেকেও কঠিন পরীক্ষায় এবার রাজীব, দেখুন

আরও পড়ুন - হাজার টাকার কুপন বিলি, BJP-র বিরুদ্ধে ভোট কেনার গুরুতর অভিযোগ করল TMC

মুকেশ তো উল্টোপাল্টা কিছু খাবে না বাইরে। সে পড়েছে ফাঁপরে, তার দৈনন্দিন রুটিন গড়বড় হয়ে যাচ্ছে এই অঙ্গরক্ষকের কাজ করতে করতে। তবে হাসি মুখে মেনে নিয়েছে সে। সকাল বেলা তিন ঘন্টা জিমে কাটিয়ে প্রথমে পান্তা ভাত খেয়ে নিচ্ছে সে , এরপর মিনিট পনেরো পরে প্রাতরাশ ও খেয়ে নিয়ে দাদার কাছে শ্রীরামপুর দলীয় কার্যালয়ে চলে যাচ্ছে। দুপুরে ঠিকঠাক খাওয়া হচ্ছে না। শুধু ফল খেয়েই কাটিয়ে দিতে হচ্ছে।

চেহারায় গাট্টাগোট্টা হলেও মুকেশ ছেলেটি বড়ই লাজুক। জন্ম বিহারের আরা জেলায়। তবে শৈশব থেকে রিষড়া তেই মানুষ। বাবা বীরেন্দ্র প্রসাদ রেল কর্মী ছিলেন। ৬ ভাই এর মধ্যে মুকেশ বড়ো। বিয়ে হয়ে গেছে ২০০৮ সালেই। চলে কি করে? এই রাবনের আহারের ব্যায় ই বা কে বহন করেন? জিজ্ঞাসা করতেই মুকেশ জানায় তাঁর পিতাজি এই খরচ বহন করে। ছোট থেকেই বাবার উৎসাহে শরীর চর্চায় মন দিয়ে ছিল সে। মনোহর আইচের কাছে যৌবনে ট্রেনিং নিতে যেত। মূলত এই পান্তাভাত খাওয়ার রেসিপি টা তাঁর কাছ থেকেই শেখা। পাশাপাশি রোজগার বলতে গোটা দুয়েক জিমে সে আংশিক ট্রেনিং দেয়। তাতেই যা পায় আর শ্যামল দা হাজার চারেক টাকা দেন এতেই সংসার চলে যায়।