' মমতা দিদিকে উচ্ছেদ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বাংলার পরিস্থিতির পরিবর্তন আনাই  আমাদের উদ্দেশ্য',  যুক্তি দিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে  সেই মমতাকেই তোপ দিলেন রাজ্য সফরের দিনে অমিত শাহ। বাংলার চারিদিকে সীমান্তব্রতী এলাকা-রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা কতটা নির্ভর করে পশ্চিমবঙ্গের উপর, আব্বাস-কংগ্রেস-বাম ত্রিকোণ যুদ্ধের ফেলে কার লাভ বেশি বিজেপি-তৃণমূলের, সংখ্যা লঘু ভোট আসবে কতটা পরিমাণে কিংবাএকুশের নির্বাচনে  কত সিট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সব কিছুরই স্পষ্ট ধারণা দিলেন শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

আরও পড়ুন, রাজ্য়ে চিকিৎসক নিয়োগে অস্বচ্ছতা, মমতার বিরদ্ধে 'ডক্টরস' ফোরামে দুর্নীতির অভিযোগ মালব্যর  

 

একুশের নির্বাচনে জোটের ত্রিকোণ যুদ্ধের ফলে তৃণমূল না বিজেপির কার বেশি সুবিধা ?

রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গকেই টেনে আনেন। এদিন শাহ বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের চারিদিকেই সীমান্তবর্তী এলাকা। সেদিক থেকে বাংলা খুবই স্পর্শকাতর স্থল। তাই বাংলার সুশাসনের দায়িত্ব বিজেপি এলে যে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা হবে', তারই ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন এর পাশপাশি  উঠে আসে আব্বাস সিদ্দিকি এবং বাম-কংগ্রেসের জোটের প্রসঙ্গ। এদিকে এর মধ্যে এখনও আসন নিয়ে জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই আসন রফা নিয়ে বাম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনায় বসে আইএসএফ। দুই দলের থেকে মোট ৪৫ আসন দাবি করেছিল আইএসএফ নের্তৃত্ব। এর মধ্য়ে বামেদের ৩০ টি এবং কংগ্রেসের ১৪ টি আসন। তবে এখানে আইএসএফের চাওয়া আসনের অধিকাংশই ছাড়তে রাজি বামেরা। শুধু  দুটি আসন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একুশের নির্বাচনে জোটে ত্রিকোণ যুদ্ধের ফলে তৃণমূল না বিজেপির কার বেশি সুবিধা হবে, এপ্রসঙ্গ শাহ বলেন , ' একটাসময়   অ্যান্টি মমতা ভোটে বিভক্ত হত। তবে এখন  আমাদের বাংলা জয়ের সময় এসে গিয়েছে।  অ্যান্টি বিজেপি ভোটে যা বন্টন  হওয়ার, হোক'-হাওয়ায় ওড়ালেন শাহ। আরও বললেন, 'কংগ্রেস এবং বামেদের জোট কতটা শক্তিশালী হবে, তার উপরেই দাঁড়িয়ে আছে তৃণমূলের ভবিষ্যত। এবং তিনি এটাও জানান, যে ২০০ এর বেশি সিট পেয়েই ভোট যুদ্ধে জয়ী হবে বিজেপি।'

 

আরও পড়ুন, 'দিদির নজর শুধুই ভাইপো কল্যাণে', সাগর থেকে মমতার সভায় 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি পাঠালেন শাহ 

 

 সংখ্যা লঘু ভোট আসবে কতটা পরিমাণে ?

তবে প্রাসঙ্গিকতায় দল বদলের ইস্যুতে প্রশ্ন উঠল যে মুখগুলি দেখে লোকে তৃণমূলে ভোট দিতে চাইত না, সেই মুখগুলিই যদি এখন বিজেপিতে আসে সেক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে নাতো গেরুয়া শিবিরে। এক্ষেত্রে অবশ্য বরাবরের মতো সরলীকরণ করে শাহ বললেন, 'বাংলা তথা সারা দেশেই ভারতীয় জনতা পার্টিতে সব দল থেকেই ভাল ব্যাক্তিত্বরাই যোগদান করেছে, তাই সেক্ষেত্রে ভোটে প্রভাব পড়ার কোনও কারণ নেই' বলে আসাম-উত্তরপ্রদেশ-উত্তরাখন্ডের উদাহরণ দিলেন শাহ।  এরপর সংখ্যা লঘু নিয়ে প্রসঙ্গ উঠলে শাহ বলেন, 'ওইভাবে কোনও ভাগাভাগির ভোটে বিশ্বাসী নয় বিজেপি। সবই এক, সবাই বাঙালি-বাংলার মানুষ।' তবে সাম্প্রদায়িকতার ছাপ বিজেপির উপর আসা প্রসঙ্গেও জল ঢাললেন অমিত শাহ। 

আরও দেখুন, Election Live Update- 'নেতাজি আজও সকলের বরেণ্য', ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে অমিত শাহ  

 

'দিদিকে উচ্ছেদ নয়, বাংলায় পরিবর্তন আনাই আমাদের উদ্দেশ্য'

শাহ এদিন সাফ জানিয়েছেন,' মমতা দিদিকে উচ্ছেদ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বাংলার পরিস্থিতির পরিবর্তন আনাই  আমাদের উদ্দেশ্য।আমফানের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেন্দ্র যে টাকা পাঠাচ্ছে তৃণমূল তা আত্মসাৎ করে নিচ্ছে।সংস্কৃতি এবার নির্বাচনী ইস্যু হয়েছে কারণ নির্বাচনে হিংসা বাংলার সংস্কৃতির নয়, পরিবারতন্ত্র বাংলার সংস্কৃতি নয়। কিন্তু মমতা দিদি নির্বাচনী হিংসাকে সংস্কৃতি বলে প্রাধান্য দিচ্ছেন।' অমিত শাহ বললেন,'আমি এটাই প্রশ্ন করতে চাই মমতা দিদির সরকারকে, বাংলার গরীবদের কি অপরাধ যে কৃষকদের ৬০০০ টাকা করে পাচ্ছেন না। বিজেপি সরকার এখানে আসতেই মোদীজি বলেছেন, প্রকল্পের সুবিধা ও আগের টাকা পাবেন কৃষকরা। কৃষকদের মোদি সরকার ৬০০০ টাকা করে দিচ্ছে অথচ এখানে মমতা দিদি তাদের সেই টাকা দিচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে কমিউনিস্টদের শাসন ছিল। তাই বাংলার রাজনীতিতে হিংসাত্মক  ভাবধারা ছিল বলেই বাংলায় সংস্কৃতির বিকাশ হয়নি। কিন্তু আমার ভরসা এবার পরিবর্তন হবে। রাজনীতিতে যে হিংসার ভাবধারা রয়েছে তা পরিবর্তিত হবে।'