বাকি চার দফার প্রার্থী তালিকা তৈরি করতে রীতিমত কালঘাম ছুটছে বিজেপি। সূত্রের খবর বাকি চার দফায় হেভিওয়েট প্রার্থীর বাছাইয়ের দিকেই জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি। প্রার্থী তালিকায় থাকতে পারে নতুন চমক। বাংলার প্রার্থী বাছাই করতে বুধবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি দীর্ঘ বৈঠক করে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যের বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় জানিয়েছে আর দুই এক দিলের মধ্যেই বাকি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে প্রার্থী বাছাইসহ দলের নির্বাচনী রণকৌশল ঠিক করার জন্য আগেই থেকেই দিল্লিতে তলব করা হয়েছে বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুকুল রায়কে। তাঁদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে দল প্রার্থী কারর বিষয় নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, দল চাইছে ভোট প্রচারে তাঁকে ব্যবহার করতে। এই রাজ্যে নির্বাচনী প্রাচার যাতে তাঁর নেতৃত্ব হয় সেই নির্দেশও দলের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছে দিলীপ ঘোষ। নিউটাইনে দলীয় একটি কর্মসূচিতে যোগদিতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্যসভাপতি। 


বিজেপি সূত্রের খবর মুকুল রায়কে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর তাঁকে কৃষ্ণনগর  উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করা হতে পারে। অন্য একটি সূত্রের খরব ভাবনীপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে প্রার্থী করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও মুকুল রায় প্রার্থী হওয়ার থেকে সংগঠনের কাজ করতেই বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় থেকেই দলের প্রথম সারির সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুকুল রায়। বিজেপি যোগদানের পরেই নিজের সংগঠক পরিচয়ের ওপরেই জোর দিয়েছিলেন তিনি। ২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন মুকুল রায়। সেই নির্বাচনী স্মৃতি তাঁরকাথে খুব একটা সুখকর নয়। সেই সময় বাম প্রার্থীর কাছে তাঁকে হারতে হয়েছিল। মুকুল রায়ের অনুগামীর কথায় 'দাদা ভোট লড়াইতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য নয়। কিং মেকারের ভূমিকায় তিনি রীতিমত দক্ষ।'  বিজেপি সূত্রের খবর ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আসন সংখ্যা ১৮তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মুকুল রায়ের বিশেষ ভূমিক রয়েছে। আর সেই কারণেই তাঁকে প্রার্থী করার ওপরেও বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।