একদিকে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট অপরদিকে কাঁচড়াপাড়া। রাজ্যের দুই প্রান্তে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। অভিযোগ কাঁচড়াপাড়ায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা আটকানোর অভিযোগ ওঠে পুলিসের বিরুদ্ধে, আর কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্জুন সিং, বাবুল সুপ্রিয়দের উপস্থিতিতে মিছিল ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী সমর্থক। অভিযোগ মিছিল লক্ষ্য কের ছোড়া হয় জুতো, ঝাটা। দেখানো হয় কালো পতাকা। এরপরই সংঘর্ষে জড়িয়ে পর তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা। দুই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রথমে কাঁচরাপাড়ায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৬ ফ্রেরুয়ারি নবদ্বীপ থেকে প্রথম রথযাত্রাটির সূচনা করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। বীজপুর শহরে ঢোকার মুখে কাঁপা মোড় এলাকায় রাস্তায় ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিস। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় , মুকুল রায়, শুভ্রাংশু রায় সহ অন্য়ান্যরা। পুলিসের দাবি, কাঁপা মোড় থেকে বনগাঁ রোড পর্যন্ত রথযাত্রার অনুমতি নেওয়া হয় না। কিন্ত বিজেপি কর্মী তা মানতে অস্বীকার করেন। ব্যারিকেড ভেঙে এগনোর চেষ্টা করলে পুলিসের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় তাঁদের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। বিজেপি কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই বনগাঁ রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি। রাস্তায় বসে পড়েন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শুভ্রাংশু রায়রা। কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন,'পরিবর্তন যাত্রার সাফল্যে ভয় পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাই প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তা আটকাতে চাইছে। এমন হলে পুরো রাজ্য জুড়ে আন্দোলন শুরু হবে।' বেশ কিছু সময় অবরোধ চলার পর পুলিসি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অপরদিকে, কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের যে খণ্ডযুদ্ধ বাধে, সেই ঘটনাতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনায় দু-পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। কাঁচ ভেঙেছে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গাড়ির। ঘটনায় তৃণমূল ও রাজ্য সরকারকে তোপ দেগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'ইচ্ছাকৃত কয়েক জন তৃণমূল কর্মীকে দিয়ে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। পুলিসেরও মদত রয়েছে তাতে। তবে নীচু তলার পুলিস কর্মীদের কোনও দোষ নেই। উচু তলার পুলিস কর্নীরা প্রনোশনের জন্য এই সমস্ত করছে।' রাজ্য জুড়ে যদি বিজেপি যদি নাই থাকে, তবে এত ভয় কীসের তৃণমূলের? সেই প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পুলিশের ভূমিকা ন্যক্কারজনক। এগুলো সব ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হল!’’ অর্জুন বলেন, ‘‘মিছিল করার সময় ঝাঁটা-জুতো দেখানো হচ্ছে! এগুলো কি বাংলার সংস্কৃতি! এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথাও মিছিল করলে তো বিজেপি-র লোকজন তাঁকেও ঝাঁটা-জুতো দেখাবে! সেটা কি ভাল হবে!’’  ফলে আজকে রাজ্যের দুই জায়গায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে কেন্দ্র করে যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি হল তাতে আগামি দিনে কোনও বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটে কিনা পদ্ম শিবির, এখন সেটাই দেখার।