নেতাই গ্রামে শুভেন্দু ও তৃণমূলের পৃথক শহিদ দিবস। লালগড়ে শুভেন্দু কে লক্ষ্য করে গদ্দার হাঁটাও, মীরজাফর গো ব্যাক স্লোগান তৃণমূলের।পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরী হতে পারে এমন আশঙ্কা করেই পুরো লালগড় বাজার ও নেতাই গ্রাম পর্যন্ত কয়েকশ পুলিশ কর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছিল।  

 

 


অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও শুভেন্দু অধিকারী লালগড়ের নেতাই গ্রামে হাজির হয়েছিলেন শহিদ দিবস পালনের জন্য। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ লালগড়ের পাশে নেতাই গ্রামে শহিদ বেদীতে মালা দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বক্তব্য রাখেন। ৯ শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দিয়ে কথা বলেন শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সঙ্গে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন-দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচিটি অরাজনৈতিক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা মিলিতভাবে অরাজনৈতিক ব্যানারে শহিদ দিবস পালিত হয় ।কিন্তু বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে লোকজন পাল্টা রাজনৈতিক ব্যানারে শহিদ দিবস করছেন। এসব মানুষ বোঝে। এতদিন তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। এসব আমি করে আসছিলাম।'

 

 

শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি নেতাই গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে লালগড় বাজার সংলগ্ন এলাকায় শহিদ দিবস পালনের কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। বেলা বারোটার সময় যেখানে উপস্থিত হবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় মদন মিত্র সহ ছত্রধর মাহাতো ঝাড়গ্রাম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ৭  জানুয়ারি লালগড়ের নেতাই গ্রামে সিপিএমের সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাম্প থেকে গুলি করা হয়েছিল প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের উপর। ৯জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন কুড়ি জনের বেশি । সেই ঘটনার পর জঙ্গলমহলের লালগড় ও সংলগ্ন এলাকা থেকে সিপিআইএম পুরোপুরি অবলুপ্ত হয়েছিল । মাইলেজ দিয়েছিল তৃণমূলকে । তারপর থেকে প্রতিবছর ওই নেতাই গ্রামের শহীদ দিবস পালন করে আসছে তৃণমূল ।

এদিন নেতাই গ্রামের শুভেন্দু অধিকারী শহিদ সভা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় লালগড়ে তৃণমূলের সভাস্থল সংলগ্ন রাস্তায় মীরজাফর গো-ব্যাক শ্লোগান দেয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরী হতে পারে এমন আশঙ্কা করেই পুরো লালগড় বাজার ও নেতাই গ্রাম পর্যন্ত কয়েকশ পুলিশ কর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছিল। তারপরেও তৃণমূল কর্মীরা পুরো লালগড় বাজার সংলগ্ন এলাকায়,' শুভেন্দু গো ব্যাক, মীরজাফর গো ব্যাক , গদ্দার হটাও' স্লোগান দেয়।