ভোট আসতেই ফের বাংলা জুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক হিংসা। জেলায় জেলায় উদ্ধার হচ্ছে বোমা। এর মধ্যে, বুধবার কোচবিহারের দিনহাটায় এক পশু হাসপাতালের বারান্দায় মিলল বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতির ঝুলন্ত দেহ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এই জেলা শহর। বিজেপির অভিযোগ, এটা শাসকদলের পরিকল্পিত খুন। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। দেহ উদ্ধারে পুলিশকে দিলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। আপাতত, পরিস্থিতি শান্ত হলেও, সব দোকানপাট, যানবাহন বন্ধ। প্রায় লকডাউনের সময়ের চেহারা নিয়েছে দিনহাটা।

নিহত ওই বিজেপি নেতার নাম অমিত সরকার। তিনি দিনহাটা শহরের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি তাঁর। রাতে দলীয় সভাও করেছিলেন তিনি। দলের প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। রাত থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এদিন সকালে স্থানীয় পশু হাসপাতালের বারান্দায় তাঁকে মৃত অবস্থায় পায় দিনহাটা থানার পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। কারণ তাঁর পা মাটি স্পর্শ করে ছিল। বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান, তথা পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্যও এই ঘটনা নিয়ে টুইট করে আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের দিকেই।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের যুক্তি, বিজেপি নেতা-কর্মীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছে, যখন, তারা নিশ্চয়ই ওই ঘটনা দেখেছেন। তাই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত পুলিশের। তৃণমূল এই ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানে না, তবে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে গোটা দিন তীব্র উত্তেজনা ছিল দিনহাটায়। দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি। জায়গায় জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে বিজেপি। কোচবিহারের সাংসদ তথা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটার বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা থানায় গিয়ে এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবি জানান। সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন, নিশীথ প্রামাণিক। তবে, থানা থেকে ফেরার পথে তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহর কার্যালয় ভাঙচুর করা এবং তৃণমূল কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

এদিকে, নিহত বিজেপি নেতার দেহ উদ্ধার করতে গেলে, পুলিশকে বাধা দেন বিজেপি কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চালায় পুলিশ। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়েন বিজেপি নেতা-কর্মীরা, এমনই অভিযোগ উঠেছে। এরপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে বিজেপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। আপাতত, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেমেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। দোকানপাট সব বন্ধ। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া বা মানুষ বিশেষ চোখে পড়ছে না। পুরো পরিবেশ থমথমে হয়ে রয়েছে।