মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হল দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার পর্ব। টেঙ্গুয়ার সভা দিয়ে এই পর্বের প্রচার শেষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আর তারপরই তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে জয় শ্রীরাম স্লোগান তুললেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।   গাড়ি থামিয়ে দিলেন মমতা। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ডেকে, প্রচার বন্ধের পরও বিজেপি কর্মীরা কেন এই স্লোগান তুলছে, তাই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন নির্বাচন কমিশনের।

বস্তুত, এদিন সকাল থেকেই বারে বারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুনতে হয়েছে এই স্লোগান। এদিন সকালে নন্দীগ্রামে মমতার রোড শো ছিল। সেই রোড শো-এর স্থানে পৌঁছনোর পথে রেয়াপাড়ায় অমিত শাহ-এর রোড শো-এ যোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন বিজেপি সমর্থকরা। মমতার কনভয় দেখেই তাঁরা জয় শ্রীরাম স্লোগান তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছন পিছন কিছু বিজেপি সমর্থককে দৌড়তেও দেখা যায়।

এরপর, আবার টেঙ্গুয়ার তাঁকে শুনতে হয় জয় শ্রীরাম। সেখানে আবার মিঠুন চক্রবর্তীর রোড শো-তে অংশ নেওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন। তবে এখানেই শেষ হয়নি। টেঙ্গুয়া থেকে বলরামপুর গ্রামে যান তিনি। এক তৃণমূল সমর্থক পরিবারকে ভোট না দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বিজেপি, এমনই দাবি করেছেন মমতা। সেখানে ওই পরিবারকে ভয়মুক্ত করতেই আসেন মমতা। সেইসময়ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওই গ্রাম ঘিরে জয় শ্রীরাম স্লোগান তুলতে দেখা যায়। ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন পুলিশ ও আধাসেনা, এমনই অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এদিকে, এদিন প্রচার শেষ হতেই নন্দীগ্রামে বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি লেগে যায়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর রোডশো শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। মাঝপথে তাদের উপর চড়াও হয়েছিল তৃণমূল আশ্রীত গুন্ডারা। এর প্রতিবাদে তাঁরা পথ অবরোধও করেছিলেন। এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল ব্যাপক উত্তেজনা। পরে অবশ্য তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। রাস্তায় কাউকেই থাকতে দেওয়া হয় না।