বৃহস্পতিবার বিজেপির পক্ষ থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের ১৪৮টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। আর তারপরই কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভের আগুনে মুখ পুড়ল উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির। এদিন নয়াদিল্লি থেকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। আর তাঁর ছবিই পুড়িয়ে দেওয়া হল চাকুলিয়ায়। অন্যদিকে ইটাহারের প্রার্থী ঘোষণা না হতেই অশান্তি শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।   

এদিন, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই চাকুলিয়া ব্লকজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। তাঁরা স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালান। এখানকারই সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।তাঁর ফ্লেক্স ছিঁড়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে। মন্ত্রীর ছবিতে জুতোর মালাও পড়ানো হয়। কিন্তু তাঁদের দাবি কী? বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, দলের ঘোষিত প্রার্থী ড. সচিন প্রসাদ-কে তাঁরা কিছুতেই প্রার্থী হিসাবে মেনে নেবেন না। প্রার্থী চাই স্থানীয়।

অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ও করনদিঘি আসন বাদ দিয়েই এদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই ব্লকের বিজেপি সমর্থকরাও এদিন রায়গঞ্জ শহরে এসে জেলা কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। জেলা স্তরের কয়েকজন নেতাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহও করা হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন - নকশাল দূর্গ ঝাড়গ্রাম এখন বিজেপির ঘাঁটি, কীভাবে জমি তৈরি করে দিয়েছে আরএসএস, দেখুন

আরও পড়ুন - 'ধর্ম'-যুদ্ধ, বিজেপির চক্রবূহে ফেঁসে গিয়েছেন মমতা - এবার দুই কূলই না হারাতে হয়

আরও পড়ুন - নামকরণ, অনুকরণ এবং নাকচ - কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নিয়ে কোন খেলায় মেতেছেন মমতা, দেখুন

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অমল আচার্য্য। গতবার ইটাহার কেন্দ্রে তিনিই জয়ী হয়েছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে। গত কয়েকদিন ধরেই ব্লক স্তরে বিজেপির অন্দরমহলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে ইটাহার থেকে অমল আচার্য্যকেই প্রার্থী করবে বিজেপি। এই কারণেই স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ব্যাপক ক্ষুব্ধ। জেলা কার্যালয়ে এসে ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাঁরা এদিন দাবি জানায়, স্থানীয় নেতা নিমাই সিংহকেই ইটাহার আসনে প্রার্থী করতে হবে। অন্য কাউকে প্রার্থী হিসাবে মানা হবে না।

প্রসঙ্গত, জেলা থেকেও নিমাই সিংহ-র নামই প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছে। এদিন ব্লকে ব্লকে বিজেপি কর্মীদের এই ক্ষোভ নিয়ে জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেছেন, স্থানীয় কর্মিদের স্বাভাবিকভাবেই আশা থাকে নিজেদের এলাকারই কেউ প্রার্থী হবেন। সেই আবেগ থেকেই তাদের মনে কিছুটা ক্ষোভ জমেছে। তবে নেতৃত্ব তাঁদের ক্ষোভের কথা শুনে, তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন, বলেই তিনি জানিয়েছেন।