ব্রিগেডে আসতে পারেছেন না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যচিকিৎসকদের বারণেই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না তিনিকমরেডদের উদ্দেশ্যে দিলেন লিখিত বার্তাএখনও বাম শিবিরে তারকা তিনিই

রবিবার দীর্ঘদিন বাদে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করছে বামেরা। আর তাই ঘিরে দীর্ঘদিন বাদে বাম শিবিরে এক অন্যরকম উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। এর আগে বামেদের শেষ ব্রিগেড সভাতেও এসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তবে গাড়ি থেকে নামতে পারেননি। গাড়িতে বসেই কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। এবারও সেই রকম করতে পারেন বলে শনিবার সকাল থেকে শোনা যাচ্ছিল। তবে, শনিবার রাতের দিকে সেই আশা মিলিয়ে গেল। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে রবিবার ব্রিগেডে আসবেন না বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সশরীরে ব্রিগেডে উপস্থিত থাকতে পারছেন না, তা এদিন নিজেই এক লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন এই বর্ষিয়ান সিপিএম নেতা। নিজে থাকতে না পারলেও ব্রিগেড ঘিরে উন্মাদনা তাঁকে ছুঁয়ে গিয়েছে। কমরেডদের উদ্দেশ্যে এদিন এক লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। আর তার প্রতি ছত্রে ব্রিগেডে না থাকার আক্ষেপ, সভা ঘিরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আবেগ ধরা পড়েছে।

লিখিত বার্তায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, 'ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে বিভিন্নভাবে খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি। শুনে বুঝতে পারছি বহু মানুষ সমাবেশে আসবেন এবং অনেকে এসে গেছেন। বড় সমাবেশ হবে। এরকম একটা বড় সমাবেশে যেতে না পারার মানসিক যন্ত্রণা বোঝানো যাবে না। মাঠে ময়দানে কমরেডরা লড়াই করছেন আর আমি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ডাক্তারবাবুদের পরামর্শ মেনে চলছি। ময়দানে মিটিং চলছে আর আমি গৃহবন্দী যা কোনদিন কল্পনাও করতে পারিনি। সমাবেশের সাফল্য কামনা করছি।' (ভাষা ও বানান অপরিবর্তিত)।

২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর শেষবার ব্রিগেড সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেইবারও তিনি রাজ্যের শিল্পায়নের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিও ব্রিগেডে এসেছিলেন বুদ্ধবাবু, তবে সেইবার বলেননি, শ্রোতাই ছিলেন। তবু তাঁর দর্শনেই উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল দলের কর্মী-সমর্থকরা। এবারও ব্রিগেডে তাবড় বক্তা থাকলেও, তাঁদের চোখে বাম তারকা এখনও বুদ্ধ ভট্টাচার্যই। তার জন্যেই ৫ মিনিটের জন্য হলেও বুদ্ধবাবু ব্রিগেডে আসুন, এমনটাই চেয়েছিল বাম নেতৃত্ব। বুদ্ধবাবু নিজেও আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, সমস্যা হল ব্রিগেড মাঠের ধুলো। সিওপিডি-র রোগী বুদ্ধ ভট্টাচার্যের কাছে ধুলো একেবারে বিষের মতো। তাই চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত তাঁকে ব্রিগেডে যাওয়ার অনুমতি দিলেন না।

তবে এখনও, বাম কর্মী-সমর্থকদের কাছে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বার্তা কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাই নিয়ে বিভিন্ন ভাবনা-চিন্তা করছে রাজ্য সিপিএম। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কর্তারা চাইছেন সশরীরে যখন থাকতে পারছেন না, তখন ময়দানের জনতার মধ্যে বুদ্ধবাবু উপস্থিত থাকুন ভার্চুয়ালি। বিকল্প হিসাবে অডিও বার্তার কথাও ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ১০ বছর পরও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জনপ্রিয়তা , গ্রহণযোগ্যতা - এখনও বর্তমান বাম নেতৃত্বের যে কোনও নেতার থেকে বেশি, তা বোঝাই যাচ্ছে। প্রশ্ন হল, এখনও কেন অসুস্থ বুদ্ধবাবুর উপরই মাঠ ভরানোর জন্য ভরসা রাখতে হচ্ছে, কবে আবার বাম শিবির থেকে উঠে আসবে সুভাষ চক্রবর্তী, অনিল বিশ্বাস, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যদের মতো ক্যারিশ্ম্যাটিক নেতা?