- Home
- West Bengal
- Kolkata
- TMC Vs TMC: বিধানসভায় সই জালিয়াতির বড় ধাক্কা! তৃণমূলী দ্বন্দ্বে পদ খোয়াতে পারেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
TMC Vs TMC: বিধানসভায় সই জালিয়াতির বড় ধাক্কা! তৃণমূলী দ্বন্দ্বে পদ খোয়াতে পারেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
বিধানসভায় স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায় (Sovandeb Chattopadhyay)-এর বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে

বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ড
বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সইজাল কাণ্ডের তদন্ত এগোনোর আগেই প্রকাশ্যে এসেছে ঘাসফুল শিবিরের অন্তর দ্বন্দ্ব। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋণব্রত বন্দোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে।

শুভেন্দুর সাফ কথা
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, হেরে যাওয়ার পরেও তৃণমূলের চুরির অসভ্যতা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, মোট ১৪ জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ জন বিধায়ক স্বীকার করে নিয়েছেন, সই তাদের নয়।
ঋতব্রতদের বহিষ্কার
সই-জালকাণ্ডে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই স্পিকারকে জানানো হয়েছে। তবে সইজাল কাণ্ডে ফের প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর দ্বন্দ্ব।
তৃণমূলের অন্দরে দ্বন্দ্ব
বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরই একের এর এক নেতা - প্রাক্তন মন্ত্রী দল ছাড়তে শুরু করেছেন। এই অবস্থায় দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের গলাতেও শোনা যাচ্ছে অন্য সুর। বেসুরো সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো মমতার পুরনো সহযোদ্ধারা। তবে সই-জাল কাণ্ডে মমতা-অভিষেকের নেতৃত্বকে অস্বীকার করার সুর শোনা গেছে।
মমতাই শেষকথা!
শুরুর দিন থেকে বিধানসভা ভোট পর্যন্ত তৃণমূলে শেষ কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার হাত ধরেই উত্থান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূলের একাংশের দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়েই অভিষেকের জন্য রাজনীতির পথে রেড কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটে হার সবকিছু তছনছ করে দেয়।
হারের পরই ক্যামাক স্ট্রিট বিরোধিতার শুরু
বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছে দলেরই একাংশ। দলের একাংশের কথায় হারের জন্য দায়ী অভিষেকের ঔদ্ধত্য়। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তায় নেমে লড়াইয়ের সঙ্গে অভিষেকের সহজ সরল উত্থানেরও তুলনা করেছেন অনেকে।
অভিষেক বিরোধিতা
তৃণমূল কংগ্রেসে অভিষেক বিরোধিতা ক্রমশই বাড়ছে। সই-জাল কাণ্ড যার একটি উদাহরণ মাত্র। ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর উত্তসুরী অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। মমতার পুরনো সহযোদ্ধাদের কাছে অস্বস্তির কারণ হলেও তা নিয়ে মুখ খোলেননি অনেকে। কিন্তু ভোটে হারের পর ছবিটাই পুরো বদলে যায়।
শোভনদেরের নেতৃত্ব অস্বীকার
আর সেই সূত্র ধরেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদের চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করার পদক্ষেপ। কারণ ভোটের ফল প্রকাশের পরই বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেন মমতা-অভিষেক। ডেপুটি লিডার করা হয় নয়না বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অসীমা পাত্রকে। দলের মুখ্যসচেতক ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কথা মানতে নারাজ দলেরই একাংশ তাঁর প্রমাণ কালীঘাটের বৈঠকে ৬০ বিধায়কের অনুপস্থিতি।
কোপ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ওপর
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দীর্ঘ দিনের সহযোদ্ধা। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরে যে অভিষেক বিরোধিতা শুরু হয়েছে তাতেই তাঁর বিরোধী দলনেতার পদে কোপ পড়তে পারে। বিধানসভার অধিবেশ শুরু হলেই তৃণমূলের নির্বাচিত ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই শোভনদেবের বিরোধিতা করতে পারে। তা যদি হয় তাহলে তৃণমূলে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
ঘাতপ্রতিঘাতে তৃণমূলের উত্থান
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যে দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান। কিন্তু দলের রাশ সর্বদাই শক্ত হারে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। বামেদের কাছে একের এক ভোট যুদ্ধে তাঁর দল হারলেও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরই অভিষেক-ইস্যু প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মমতার নেতৃত্বকে।

