২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়েছিল বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। কিন্তু, সেইবার জোট করব কি করব না - এই দোনোমোনোয় অনেক দেরি করে ফেলেছিল তারা, যার খেসারত দিতে হয়েছিল ভোটযন্ত্রে। এমনটাই বলেছিলেন নির্বাচনী বিশ্লেষকরা। এইবার অনেক আগেভাগেই ময়দানে নেমেছে তারা। বৃহস্পতিবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এই জোট। দু'পক্ষের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে রফা হল ১১৬ আসনের।

এদিন বাম-কং বৈঠকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর নেতৃত্বে বাম নেতাদের একটি দল যোগ গিয়েছিলেন এই বৈঠকে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতাদের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের লোকসভার পরিষদীয় দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। বৈঠকে ১১৬ আসনে সমঝোতা সূত্র বের হয়। এর আগের বৈঠকে ৭৭টি আসনে কে কোথায় প্রার্থী দেবে, তা পাকা হয়েছিল। অর্থাৎ মোট ১৯৩ বিধানসভা কেন্দ্রে বাম ও কংগ্রেসের আসন সমঝোতা হয়ে গেল। বাকি রইল আরও ১০০ আসন।

আরও পড়ুন - মমতা-র লক্ষ্য 'গ্রেটার বাংলাদেশ' গঠন, তিন ছবি তুলে ধরে গুরুতর অভিযোগ দিলীপ ঘোষের

আরও পড়ুন - ভ্যাকসিনের মাঠে চিনকে গোল দিচ্ছে মোদীর 'প্রতিবেশি প্রথম' নীতি, টিকা গেল শ্রীলঙ্কা-বাহারিন

আরও পড়ুন - ৩৭ কৃষক নেতার বিরুদ্ধে 'লুকআউট নোটিশ', দেশত্যাগ আটকাতে ততপর দিল্লি পুলিশ

রাজ্যে এখন প্রবল গেরুয়া হাওয়া। তারমধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছেন তৃণমূল নেত্রীও। কার্যত দুই দলীয় লড়াইয়ের মধ্যে আসন্ন বিধানসভা নিকর্বাচনে বাম-কং জোটের পক্ষে হালে পানি পাওয়া বেশ দুঃসাধ্য। তারমধ্যে বিজেপি না তৃণমূল - কাকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখা হবে, তাই নিয়েও বামেদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশই যখন বিজেপিকেই প্রধান বিপদ বলে মনে করছেন, তখন কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাতেই বেশি আগ্রহী। বাম-কংদের দিয়ে সেই কাজ হবে না মনে করে এদের অনেকেই নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দেবেন বলে আশা করছে পদ্ম শিবিরও। দুপক্ষের সমর্থকদেরই একাংশ আবার জোট গড়ারও বিরোধী। কাজেই জোটের সামনে লড়াইটা বেশ কঠিন।