বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম আকর্ষণীয় চরিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন গোপাল মিত্র, যিনি মদন মিত্র বা মদনদা নামেই বেশি পরিচিত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কামারহাটি আসন থেকে তাঁকে ফের প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, ভোটের আগেই সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তের মামলায় তাঁকে ফের তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। ১৮ মার্চের মধ্যে তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস আবার অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বাংলার শাসকদলের প্রার্থী এবং নেতা-নেত্রীদের হয়রানি করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
 ঘটনা যাইহোক, এই অবসরে জেনে নেওয়া যাক মদন মিত্রের সম্পত্তির হিসেব নিকেশ -

২০১৯ সালে ভাটপাড়া কেন্দ্রে অর্জুন সিং-এর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন মদন মিত্র। সেই সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে যে হলফনামা দায়ের করেছিলেন, তা বলছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মদন মিত্রের, স্থাবর অস্থাবর মিলিয়ে মোট পারিবারিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকার মতো।

হলফনামায় মদন মিত্র জানিয়েছিলেন তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্রর সম্মিলিত অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১.১৫ কোটি টাকারও বেশি এবং তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ৭৫.১১ লক্ষ টাকা। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কামারহাটি আসনের তৃণমূল প্রার্থীর ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে বার্ষিক আয় ছিল ৪.০৩ লক্ষ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর ৬.৩৫ লক্ষ টাকা।

মদন মিত্রের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ৪২,৫৫০ টাকা, ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থায় সঞ্চিত    ৬৪.৩৫ লক্ষ টাকা, এলআইসি ও অন্যান্য বিমা রয়েছে ৭.৬৩ লক্ষ টাকার, ব্যক্তিগত ঋণ দিয়েছেন ৮.২২ লক্ষ টাকা। এছাড়া মদন মিত্রের ২.১৩ লক্ষ টাকার সোনা-রুপার গহনা ও রত্ন রয়েছে। তাঁর নামে কোনও গাড়ি নিবন্ধিত নেই। তাঁর স্ত্রী অবশ্য রয়েছে দুটি গাড়ি - ২০১১ সালের অ্যাম্বাস্যাডার গাড়ি এবং একটি ২০০৮ সালের স্করপিও গাড়ি।

 

মদন মিত্রের অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কোনও চাষের জমি, এমনি জমি, বাণিজ্যিক ভবন নেই। কলকাতার ডায়মণ্ড হারবার রোডে তাঁর একটি বসত বাড়ি রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩৭ লক্ষ টাকার বেশি। আর তাঁর স্ত্রী র নামে একটি বাড়ি রয়েছে কলকাতার ধীরেন্দ্রনা বোস রোডে। সেটির বাজার মূল্য ৩৮ লক্ষ টাকার বেশি।

২০১৪-১৫ সালে মদন মিত্রের বার্ষিক আয় ছিল ৭.০৯ লক্ষ টাকা। ২০১৭-১৮-এ তা নেমে আসে ৪.০৩ টাকায়। একই সময়ে তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্রর বার্ষিক আয় বেড়েছে ২.২১ লক্ষ টাকার থেকে ৬.৩৬ লক্ষ টাকা। ৩ বছরে তাঁদের মোট সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৯.৬৬ লক্ষ টাকা। প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারীতে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন ক্রিড়ামন্ত্রী মদন মিত্রর বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা, ফৌজদারি ষড়যন্ত্র করা এবং ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।