ক্রমশই প্রকট হয়ে উঠছে বেকারত্বের জ্বালা। উচ্চশিক্ষিত হয়েও বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করেও লাভ হয়নি। অগত্যা হাতের পাঁচ হিসেবে একটি ইন্টারনেট ক্যাফে খোলা হলেও সেখান থেকে তেমন উপার্জন নেই। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, এক কন্যা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। আর তাঁরা পাঁচ ভাই। করোনা অবহকালে তীব্র সমস্যায় পড়েছেন বেকার যুবক। কার্যত দিশেহারা অবস্থা তাঁর। এই অবস্থায় কোনও উপায় খুঁজে না পেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করলেন বেকার যুবক। সরাসরি চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। 

ভোটের আগে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এলাকায়। উচ্চশিক্ষিত ওই যুবকের নাম শাম মহম্মদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে তিনি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন," পিছিয়ে পড়া এলাকা সামশেরগঞ্জ ব্লক। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসার সেরকম কোনও সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও বাড়িতে বসে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। বেকারত্বের জ্বালা সহ্য করা খুব কঠিন। বাধ্য হয়ে আপনার কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালাম"। বেকার যুবক শাম মহম্মদ আরও বলেন, বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা সহ ৫ ভাই, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও কন্যার দায়ভার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। বাড়ির পাশে একটি অনলাইন ক্যাফে খুলে তার সংসার এই মুহূর্তে চলছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছে যে ওই ক্যাফে থেকে প্রয়োজনীয় উপার্জন করে সংসার চালানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তার এই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন।

স্থানীয়  বিডিও কৃষ্ণচন্দ্র মুন্ডা বলেন,"এমন ঘটনা জানা নেই। আমার কাছে কেউ কোনো আবেদন করেননি। তবে বিষয়টি অবশ্যই তা খতিয়ে দেখা হবে"। জানাযায়, এর আগেও ওই যুবক তার এই করুণ অবস্থার কথা জানিয়েছেন জেলাশাসক থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু কোথাও কোনো ফল না মেলায় বাধ্য হয়েই তাঁর এই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন।