নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতীকি অনশন। দিল্লির কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে দমদম সেন্ট্রাল জেলের রাজনৈতিক বন্দিরা রবিবার সকাল থেকে 'অনশন' করছেন। এদিন এই বিষয়ে রাজনৈতিক বন্দির পক্ষে অখিল চন্দ্র ঘোষ দিলেন প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

 

 

রাজনৈতিক বন্দির পক্ষে অখিল চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন,  'চলতি বছরে বাদল অধিবেশনে পাশ হয় কৃষি আইন-২০২০। এরপর থেকেই শুরু হয় বিবাদ-বিতর্ক। এই নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে এখন দেশ জুড়ে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হাজার-হাজার কৃষক। অবস্থান বিক্ষোভেই প্রায় ২১ জন কৃষক আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও দেশের সরকার যদি কৃষকদের প্রতি নরম মনোভাব না দেখায় অবস্থা আরও জটিলতর হবে।' 

 

 

'যখন কোভিড মহামারিকে রোখার জন্য লকডাউন চলছে, এখনও তার রেশ কাটেনি। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নতুন কৃষি আইন পাশ করিয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারা সই করিয়ে নেওয়া এটা কারচুপি ছাড়া আর কিছু না। ভারতের ন্য়ায় সুবৃহৎ দেশের গণতন্ত্রে যে জন সাধারণের অধিকারবোধে নানা ফাঁকফোকর থাকবে-এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। যদি আইনটিতে এখন এমন কিছুই না থাকত, যাতে হাজার হাজার কৃষক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতেন, তাহলে তাঁরা এতটা আক্রমনাত্ম হতেন না। বর্তমান শাসক  সংষ্কারের নামে একের পর এক কর্পোরেটদের ধ্বজা তুলে ধরতে গিয়ে জণগনের স্বার্থ বিপন্ন করছে।'

 

 

' কর্পোরেটদের কর্তাদের আবদার অনুযায়ী, সংষ্কারের তুফান তুলে প্রকৃত অর্থে দেশের কৃষক-শ্রমিকদের কল্য়াণ হয় না। মুনাফালোভী কর্পোরেট কর্তারা বিনা স্বার্থে শুধুমাত্র কৃষকদের ফসলের ন্য়ায্যমূল্য তুলে দেওয়ার মাধ্যম হিসাবে কাজ করবেন, একথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কেন্দ্রের ক্ষমতায় শাসক দল ষড়যন্ত্র করে শান্তিপূর্ণ কৃষক আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। কৃষকরা যাতে জমায়েত না করতে পারে তার জন্য ব্যারিকেড করে লাঠিপেটা করে, জলকামান দেগেও তাঁদের রোখা যায়নি। আন্দোলনকারীরা আহত হয়েছেন, বিজেছেন, কিন্তু আন্দোলনের জমি ছেড়ে হাঁটেননি।'

 

 

তিনি আরও বলেন, 'যে কৃষকরা আমাদের অন্নদাতা তাঁদের দাবি নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে, যাদের উন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে এই আইন। তাঁরা চাইছে না কর্পোরেদের গোলাম হতে। বাড়তি ফসল কীভাবে দেশের বাজারে ছড়িয়ে দেবে সেটা কৃষকরাই ঠিক করবে। সেটুকু অধিকার তো কৃষকের থাকা দরকার। যেমন  কোনও কোম্পানির দ্রব্য় বাজারে বিক্রি করার আগে কোম্পানি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু কৃষকরা তাঁদের ফসলের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। তাই ফসলের নুন্যতম সহায়ক মূল্য রাখতে হবে এবং তা কৃষকরা নির্ধারণ করবে। কর্পোরেটদের যা দরকার সেই মতো কৃষকরা চাষ করবে। ঐ ফসল প্য়াকেটজাত করে কোম্পানিগুলি মুনাফা ভোগ করবে আর কৃষকরা ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য় হয়। চুক্তিচাষ সেতো আরও ভয়ষ্কর। ব্রিটিশ আমলে নীল চাষীদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কোম্পানির প্রয়োজনেই চাষিদের চাষ বাধ্য় করা হতো একথা আজও কৃষকরা ভূলে যায়নি।'

 

 

অপরদিকে, 'বাস্তব সমস্য়া মাথায় রেখে সরকারের উচিত যত শীঘ্র সম্ভব, কৃষকদের দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া। যাতে কৃষক-সহ গোটা দেশের মানুষ আরও বৃহত্তর সমস্যা থেকে আরও অনেক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পান। আশা করি, কেন্দ্রীয় সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে, তাঁরা সহানুভূতির সঙ্গে সমস্যার সমাধানে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবেন।এই অবস্থায় আমরা দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের রাজনৈতিক বন্দিরা কৃষক আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এবং নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ২৭ ডিসেম্বর রবিবার একদিনের প্রতীকি অনশন কর্মসূচী পালন করবো।' উল্লেখ্য দিল্লির কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে দমদম সেন্ট্রাল জেলের রাজনৈতিক বন্দিরা রবিবার সকাল থেকে 'অনশন' করছেন। সোমবার বহরমপুর জেলের বন্দিরা অনশন করবেন।  রবিবার দমদমে অনশন করছেন ১০ জন, বহরমপুরে করবেন ৮ জন।