শামিকা মাইতি, ঘাটাল- কখনও ‘খেলা হবে’ ডিজে গানের সঙ্গে কোমর দুলিয়ে নাচ, কখনও সরকারি কর্মীকে ফোন করে হুমকি কখনও বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে মিলে জয় শ্রীরাম ধ্বনি- খবরে থাকতে বরাবরই ভালবাসেন ঘাটালের তৃণমূল বিধায়ক শঙ্কর দোলুই। দু’বারের জয়ী বিধায়ক এহেন শঙ্করবাবুকে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে ফের প্রার্থী করেছে তৃণমূল। বিজেপির তরফে প্রার্থী হয়েছেন শীতল কপাট। আর সংযুক্ত মোর্চার তরফে দাঁড়াচ্ছেন গতবারের সিপিএম প্রার্থী কমলচন্দ্র দোলুই। 

আরও পড়ুন- ক্ষমতায় এলেই CAA লাগু, 'সোনার বাংলা' গড়ার ডাক - কেমন হল বিজেপির ইস্তাহার
 
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রটি ঘাটাল ও খড়ার পুরসভা, ঘাটাল ব্লক এবং  দাসপুর ১ ব্লকের রাজনগর, সরবেড়িয়া ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে গঠিত। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে ৫২.২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে সিপিএমের থেকে আসনটি দখল করে তৃণমূল। এরপর থেকে সবুজ আবীরই চলছে সেখানে। ২০১৪ সালে পঞ্চায়েত ভোটে ৫৫.৪৫ শতাংশ, ১৬-তে ৪৯.৭৬ এবং ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে ৪৮.১৯ শতাংশ ভোট এই কেন্দ্র থেকে পেয়েছে তৃণমূল। সেদিক থেকে দেখলে ভোট শেয়ারিং কমছে তৃণমূলের। 

আরও পড়ুন- পাহাড়ে কঠিন লড়াই - ৩ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করলেন গুরুং, মুখ ফেরালো তামাং-রা
 
২০১৯-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে এই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭০৪৫২। ভোট পড়েছিল ২১৪৪০২। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী (দেব) এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ১০৩৩৩১টি (৪৮.১৯) ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ পেয়েছিলেন ৯৭৪৬৫টি ভোট। সিপিআই প্রার্থী তপন গাঙ্গুলি এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মাত্র ৮১৫৬টি ভোট পেয়ে সুদূর তিন নম্বরে ছিলেন।

 


 
ঘাটাল বিধানসভা আসনে কে-কত বার জয়ী
 
১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম ভোটে যুগ্ম এই আসনে জেতেন সিপিআইয়ের অমূল্য চরণ দল ও যতীশ চন্দ্র ঘোষ। ১৯৫৭ সালে যুগ্ম আসনে কংগ্রেসের দুই প্রার্থী হরেন্দ্রনাথ দোলই ও লক্ষ্মণচন্দ্র সরকার জেতেন যুগ্ম এই আসনে। ১৯৬২ সালে সিপিআইয়ের নগেন দোলই এই আসন থেকে জেতেন। সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী নন্দরানি দল ১৯৬৭, ৬৯ ও ৭১-এর ভোটে জেতেন। ১৯৭২ সালে জেতেন কংগ্রেসের হরিসাধন দোলুই। ১৯৭৭ ও ৮২-তে এই আসন থেকে জেতেন সিপিআই(এম) প্রার্থী গোপাল মণ্ডল। সিপিআইএম প্রার্থী রতন পাখিরা এরপর ১৯৮৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পরপর এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে জেতেন। ২০১১ সালে সিপিআই(এম) প্রার্থী ছবি পাখিরাকে (৪৩.৮৫ শতাংশ ভোট) হারিয়ে দেন তৃণমূল প্রার্থী শঙ্কর দোলুই (৫২.২৪)। ২০১৬ সালে ফের শঙ্করবাবুকেই প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনি সিপিএমের কমলচন্দ্র দোলুইকে ১৯৪৭৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন। এবার ফের কমলবাবু ও শঙ্করবাবু মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে লড়াইটা আর লাল-সবুজে নেই। সবুজের লড়াই এখন গেরুয়ার সঙ্গে। লোকসভা ভোটে বামেদের করুণ দশা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।