শিয়রে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন বাংলা কথা। শুধু টেলিভিশনে দেখানো অনুষ্ঠানেই নয়, প্রকাশ্য জনসভাতেও বাংলা বলছেন গুজরাতের মানুষ নরেন্দ্র মোদী। উচ্চারণের সমস্যা থাকলেও মোটের উপর ঝড়ঝড়েই বাংলা বলতে শোনা যাচ্ছে তাঁকে। কীভাবে, এমনটা করে থাকেন নরেন্দ্র মোদী? মুখস্থ ক্ষমতা ভালো, নাকি আছে অন্য কোনও উপায়? শিলিগুড়ির কর্মসূচি থেকে  ফাঁস করে দিলেন মমতা। - করছি

এদিন একদিকে কলকাতায় ছিল নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ। অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিলিন্ডার মিছিল। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছিল এই কর্মসূচি। সিলিন্ডার মিছিলের পর জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি উপস্থিত জনতার সামনে ফাঁস করে দেন গুজরাতের মানুষ নরেন্দ্র মোদী কীভাবে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলা বলেন।

নরেন্দ্র মোদীর অন্যান্য অভিযোগগুলি খণ্ডন করতে করতে এদিন হঠাতই মমতা একটি প্ল্যাকার্ড চেয়ে নেন। সেই প্ল্যাকার্ড হাতে ধরে তিনি দাব করেন, নরেন্দ্র মোদী বক্তৃতা দেওয়ার সময়, তাঁর দুইপাশে দুটি স্বচ্ছ কাঁচের স্ক্রিন থাকে। আর সেই স্ক্রিনেই নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যটি লিখিত আকারে ফুটে ওঠে। তা দেখেই বক্তৃতা করেন মোদী। বাংলা কথাগুলি লিখে আনেন গুজরাতি অক্ষরে, এমনটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ।

নির্বাচনের আগে এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন নীতি ও প্রকল্পের টক্কর যেমন চলছে, তেমনই চলছে Identity politics বা পরিচয়গত রাজনীতির প্রতিযোগিতা। কখনও রবীন্দ্রনাথের কবিতা, কখনও বিবেকানন্দ-অরবিন্দের বাণী শোনা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মুখে। এদিন ব্রিগেডে অবশ্য বাংলা বলার দিকে যাননি তিনি। শুধু 'সোনার বাংলা গড়ব' আর 'আসল পরিবর্তন চাই', এটুকুই বলেছেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা উঠে পড়ে লেগেছেন, বিজেপি'কে বহিরাগত প্রমাণ করতে।